২৮ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ভৈরব উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে উত্তোলন করার পর আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভৈরব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন। ডিলারদের অভিযোগ এই কর্মকর্তা সরাসরি এই দুর্নীতিতে জড়িত।
ডিলারদের অভিযোগে জানা গেছে , তাদের স্বাক্ষর জাল করেই চাল উত্তোলন দেখানো হয়েছে। শিমুলকান্দি ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এক লিখিত অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানান গত ১৯ নভেম্বর তার নামে ২ হাজার ৮৬৫ কেজি চাল উত্তোলন দেখানো হয় যা তিনি অবগত নয়। চাল উত্তোলনের কোনো ডিওতে তিনি স্বাক্ষর করিনি। তার অভিযোগ অফিসের উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন ডিলার শফিকুলের স্বাক্ষর জাল করে টিসিবির ডিলারকে উল্লেখিত পরিমান চালের ডিও প্রদান করেছেন।
এছাড়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার সোহাগ মিয়া অভিযোগ করেছেন তার স্বাক্ষর জাল করে সাদ্দাম হোসেন ১ হাজার ১৩০ কেজি চালের বরাদ্দ দেখিয়ে ডিও ইস্যু করা হয় । তিনি ডিওতে কোন স্বাক্ষর করেননি বলে জানান।
ঘটনাটি নিয়ে ডিলারগনের মধ্য তোলপাড় শুরু হলে উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন ঘটনার ব্যখ্যা দেন।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ভৈরবে টিসিবির ডিলারগন অন্যান্য দ্রব্যের সাথে হতদরিদ্রদেরকে চাল দিতে হয় প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে। কিন্ত সরকার টিসিবির বরাদ্দের চাল খাদ্যবান্ধব ডিলারদের বরাদ্দ থেকে নিয়ে থাকে। এটা সরকারী নিয়ম। কিন্ত গত ১৯ নভেম্বর খাদ্যবান্ধব ওই দুই ডিলার উপস্থিত না থাকায় আমি স্বাক্ষর দিয়ে ডিও ইস্যু করেছি যা আমার ভুল ছিল। পরে তারা ঘটনাটি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়। বিষয়টি চাল আত্মসাৎ বলা যাবেনা। তাদের বরাদ্দের চাল টিসিবির ডিলারগন খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে হতদরিদ্রদের মধ্য বিতরণ করেছে।
এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মচারী মোঃ রুবেল বলেন, আমরা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার অফিস থেকে বরাদ্দ দেখে চাল সরবরাহ করেছি। ডিলারদের স্বাক্ষর দেখেই আমরা চাল সরবরাহ করেছি। স্বাক্ষর জাল কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখেনি। এমন ঘটনা ঘটবে আমরা বুঝতে পারেনি। ইতিপূর্বে এধরনের ঘটনা কখনও গুদামে ঘটেনি।
অভিযোগকারী ডিলার শফিকুিল ইসলাম বলেন, আমাকে অবগত না করে আমার বরাদ্দের চালের ডিওতে অফিসের সাদ্দাম আমার স্বাক্ষর জাল করার খবর পেয়ে আমি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি। উপ-পরিদর্শক একজন দুর্নীতিবাজ। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমার বরাদ্দের চাল টিসিবির ডিলারকে দেয়ার নিয়ম থাকলে বিষয়টি আমাকে অবগত করে স্বাক্ষর নিতে পারত। কিন্ত তা না করে তিনি আমার স্বাক্ষর জাল করেছে যা মারাত্মক অনিয়ম দুর্নীতি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন ঘটনার দিন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ভৈরবে ভিজিটে আসায় কয়েকটি খালি ডিও লেটারে আগাম স্বাক্ষর করেছিলাম। সকল বরাদ্দের ডিওতে ডিলারের স্বাক্ষর দিয়ে ডিও নিতে হয়। গত ১৯ নভেম্বর দুই ডিলারের স্বাক্ষর জাল করেছে কিনা তা তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন টিসিবির ডিলারদেরকে সরকার কোন চাল বরাদ্দ দেয়না। তাই খাদ্যবান্ধব ডিলারদের নামে বরাদ্দকৃত চাল টিসিবির ডিলারকে দেয়া হয়। তবে খাদ্যবান্ধব ডিলারদেরকে অবগত করে তাদের স্বাক্ষর ডিওতে নেয়ার নিয়ম রয়েছে। সেখানে সাদ্দাম হোসেন ডিলারের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে, যা তিনি অন্যায় করেছে। তবে বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ অসত্য বলে তিনি দাবি করেন। সাদ্দাম ডিলারের স্বাক্ষর জাল করার প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি অবগত হলেও কেউ লিখিত অভিযোগ আমার কাছে দেয়নি। খাদ্যবান্ধব ডিলারদের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া অফিসের সাদ্দাম কোন অনিয়ম করলে তা তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









