১৮ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
২০ লাখ টাকা দামের জমি ও নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়া হলো না ভৈরবের যুবক আরমানের (৩৫)। তিনি ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শুম্ভুপুর আলুকান্দা এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে।
আজ মঙ্গলবার সকালে দালাল জসিম ফোন করে জানাই লিবিয়ার ত্রিপলী থেকে সাগরপথে বোর্ডে চড়ে ইতালি যাওয়ার পথে অগ্নিকান্ডের আরমানের মৃত্যু হয়। এই খবরে আরমানের পরিবারে চলছে কান্নার আহাজারি। দিশেহারা ৩ সন্তানসহ স্ত্রী নার্গিস বেগম।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের আলুকান্দা এলাকার আরমান মিয়া মালেশিয়া থেকে ৫ বছর পর দেশে ফিরেন। দেশে কিছু দিন থাকার পর একই এলাকার দালাল জসিমের সাথে ২০ লাখ টাকার দামের জমি ও নগদ ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া থেকে সাগর পথে স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পাঠানো চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী সম্পূর্ন টাকা ও জমি জসিমের নামে দলিল করে দেন আরমান। এরপর গত ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে থেকে প্রথমে সৌদি আরবে যান। সেখানে ১ দিন থাকার পর মিশরে পাঠানো হয় তারপর সেখান থেকে লিবিয়ায় যান আরমান। লিবিয়ায় কিছু দিন থাকার পর গত ১৬ নভেম্বর ত্রিপলী সাগরপাড় থেকে বিশেষ বোর্ডের মাধ্যমে ইতালি পাঠানো হবে বলে জানান দালাল। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে যুবক আরমান গেইম করে অবস্থান করে। কিন্তু লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইতালি যাওয়া সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি আরমানের।
আরমানের ছোট ভাই নয়ন মিয়া জানান, কিছুদিন হলো ছোট ভাই আরমান ৫ বছর পর মালেশিয়া থেকে দেশে ফিরেন। জীবিকা নির্বাহের আশায় লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের দালাল জসিম মিয়ার কাছে নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখ টাকা দামের ৩ গন্ডা জমি দলিল করে দেয় আমরা। এরপর লিবিয়া থেকে স্পীডবোডের মাধ্যমে ইতালি নেওয়ার কথা বলেন দালাল জসিম মিয়া। কিন্তু আজ ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে দালাল জসিম মিয়া ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানান আমার ভাই আর জীবিত নেই। সে নাকি ইতালি যাওয়ার পথে মারা গিয়েছেন ।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) আবু তালেব জানান, আমরা জানতে পেরেছি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে আরমান নামের এক যুবক লিবিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









