ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ডাক্তারসহ যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যহত।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ Time View

৮ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। গত সরকারের আমলে ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতিকরনের লক্ষ্যে একটি নতুন চারতলা ভবনের  ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করার পর ভবনের কাজ শেষ হয়। কিন্ত দীর্ঘ ৬ বছরেও সরকারী এই  হাসপাতালটি ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি। হাসপাতালে রয়েছে ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির অভাব। ফলে রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। 

জানা গেছে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূর দূরান্ত থেকে আউটডোরে রোগী আসে ৫০০/৬০০ শত। এছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে জানা গেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০/৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। তবে ৫০ শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের তিনবেলা খাবার দেয়ার বাজেট না থাকায় রোগীরা বাইরের খাবার খেতে হয়। 

এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ ২১ জন ডাক্তার থাকার পদবি থাকলেও বর্তমানে পদায়ন আছে ১৫ জন। তার মধ্য দুইজন বিশেষজ্ঞসহ ৪ জন ডাক্তার প্রেষনে অনত্র ঢাকায় কর্মরত আছেন। ফলে বর্তমানে ১১ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা চলে। প্রেষনে যারা ঢাকায় কর্মরত তারা হলো শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হ্যাপি সরকারী কর্মচারী হাসপাতালে, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমি ঢাকা মেডিকেলে, ডাঃ নওশীন ও ডাঃ তাম্মি ঢাকা বিমানবন্দরে কর্মরত আছেন। এছাড়া আর্থোপেডিক, চর্ম ও যৌন, চক্ষু ও নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ শূন্য আছে। কেবল গাইনি ও এসেস্থেথিয়া ডাক্তারসহ এখন ১১ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। রক্ত, ডায়েবেটিক পরীক্ষার যন্ত্র আছে কিন্ত মেডিসিনের দাম অতিরিক্ত বলে যন্ত্রটি চালাতে পারেনা। আলতাসোনোগ্রাম মেশিন আছে কিন্ত মেশিন চালানো ডাক্তার নেই, যার ফলে আলতাসোনোগ্রাফ করা যায়না। হাসপাতালে ঔষধের স্বল্পতা আছে। ভর্তি রোগীদের ঔষধ দিতে পারলেও জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চাহিদার ঔষধ দিতে পারেনা। প্রতিমাসে হাসপাতালে বিদ্যুত বিল আসে ৪/৫ লাখ টাকা। এতে কয়েক মাসের বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুত বিভাগ কয়েকমাস আগে হাসপাতালের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যহত হলে পরে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে লাইন সংযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত বকেয়া বিল ৪১ লাখ টাকা। অভিযোগ আছে  রোগীদের খাবারের মান নিম্নমানের। ডেন্টিস ডাক্তার আছে কিন্ত চিকিৎসা করার মত যন্ত্রপাতি নেই। এভাবেই চলছে রোগীদের চিকিৎসা। 

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, আমাদের হাসপাতালটি কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্য অতি গুরুত্বপূর্ন। কারন ভৈরবের রোগীরা ছাড়াও আশেপাশের উপজেলার অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতি করতে ভবন নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে ১০০ শয্যা হয়নি। একারনে ৫০ জন রোগীর বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের খাবার দেয়া যায়না, বাজেট নেই। বেড না থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের ফ্লোরে রাখতে হয়। ২১ জনের মধ্য ১১ জন ডাক্তার কর্মরত আছে। ৪ জন ডাক্তারের পোস্টিং হাসপাতালে থাকলেও তারা প্রেষনে ঢাকার হাসপাতালে কর্মরত। কিন্ত তারা বেতন নেয় এই হাসপাতাল থেকে। ঔষধের স্বল্পতা আছে তিনি স্বীকার করেন। বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব রয়েছে। ফলে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া যায়না। আর্থোপেডিক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জরুরি কিন্ত নেই। এসব বিষয় অবগত করে আমি বার বার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠিপত্র দিয়ে যাচ্ছি কিন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। 

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অভিজিৎ শর্মার সাথে মোবাইলে যুগান্তর প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল সমস্যা আমি অবগত আছি। হাসপাতালে পদায়নকৃত ৪ জন ডাক্তার ঢাকায় প্রেষনে কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। হাসপাতালটি  ১০০ শয্যায় উন্নতিকরন  বিষয় সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আমরা এসব সমস্যা দূর করতে চেষ্টা করছি। সামনের দিনে ধীরে ধীরে হয়তো সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ডাক্তারসহ যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যহত।

Update Time : ০২:১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

৮ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। গত সরকারের আমলে ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতিকরনের লক্ষ্যে একটি নতুন চারতলা ভবনের  ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করার পর ভবনের কাজ শেষ হয়। কিন্ত দীর্ঘ ৬ বছরেও সরকারী এই  হাসপাতালটি ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি। হাসপাতালে রয়েছে ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির অভাব। ফলে রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। 

জানা গেছে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূর দূরান্ত থেকে আউটডোরে রোগী আসে ৫০০/৬০০ শত। এছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে জানা গেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০/৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। তবে ৫০ শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের তিনবেলা খাবার দেয়ার বাজেট না থাকায় রোগীরা বাইরের খাবার খেতে হয়। 

এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ ২১ জন ডাক্তার থাকার পদবি থাকলেও বর্তমানে পদায়ন আছে ১৫ জন। তার মধ্য দুইজন বিশেষজ্ঞসহ ৪ জন ডাক্তার প্রেষনে অনত্র ঢাকায় কর্মরত আছেন। ফলে বর্তমানে ১১ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা চলে। প্রেষনে যারা ঢাকায় কর্মরত তারা হলো শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হ্যাপি সরকারী কর্মচারী হাসপাতালে, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমি ঢাকা মেডিকেলে, ডাঃ নওশীন ও ডাঃ তাম্মি ঢাকা বিমানবন্দরে কর্মরত আছেন। এছাড়া আর্থোপেডিক, চর্ম ও যৌন, চক্ষু ও নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ শূন্য আছে। কেবল গাইনি ও এসেস্থেথিয়া ডাক্তারসহ এখন ১১ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। রক্ত, ডায়েবেটিক পরীক্ষার যন্ত্র আছে কিন্ত মেডিসিনের দাম অতিরিক্ত বলে যন্ত্রটি চালাতে পারেনা। আলতাসোনোগ্রাম মেশিন আছে কিন্ত মেশিন চালানো ডাক্তার নেই, যার ফলে আলতাসোনোগ্রাফ করা যায়না। হাসপাতালে ঔষধের স্বল্পতা আছে। ভর্তি রোগীদের ঔষধ দিতে পারলেও জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চাহিদার ঔষধ দিতে পারেনা। প্রতিমাসে হাসপাতালে বিদ্যুত বিল আসে ৪/৫ লাখ টাকা। এতে কয়েক মাসের বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুত বিভাগ কয়েকমাস আগে হাসপাতালের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যহত হলে পরে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে লাইন সংযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত বকেয়া বিল ৪১ লাখ টাকা। অভিযোগ আছে  রোগীদের খাবারের মান নিম্নমানের। ডেন্টিস ডাক্তার আছে কিন্ত চিকিৎসা করার মত যন্ত্রপাতি নেই। এভাবেই চলছে রোগীদের চিকিৎসা। 

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, আমাদের হাসপাতালটি কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্য অতি গুরুত্বপূর্ন। কারন ভৈরবের রোগীরা ছাড়াও আশেপাশের উপজেলার অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতি করতে ভবন নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে ১০০ শয্যা হয়নি। একারনে ৫০ জন রোগীর বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের খাবার দেয়া যায়না, বাজেট নেই। বেড না থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের ফ্লোরে রাখতে হয়। ২১ জনের মধ্য ১১ জন ডাক্তার কর্মরত আছে। ৪ জন ডাক্তারের পোস্টিং হাসপাতালে থাকলেও তারা প্রেষনে ঢাকার হাসপাতালে কর্মরত। কিন্ত তারা বেতন নেয় এই হাসপাতাল থেকে। ঔষধের স্বল্পতা আছে তিনি স্বীকার করেন। বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব রয়েছে। ফলে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া যায়না। আর্থোপেডিক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জরুরি কিন্ত নেই। এসব বিষয় অবগত করে আমি বার বার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠিপত্র দিয়ে যাচ্ছি কিন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। 

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অভিজিৎ শর্মার সাথে মোবাইলে যুগান্তর প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল সমস্যা আমি অবগত আছি। হাসপাতালে পদায়নকৃত ৪ জন ডাক্তার ঢাকায় প্রেষনে কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। হাসপাতালটি  ১০০ শয্যায় উন্নতিকরন  বিষয় সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আমরা এসব সমস্যা দূর করতে চেষ্টা করছি। সামনের দিনে ধীরে ধীরে হয়তো সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।