১৬ অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে মসজিদের মক্তবে আরবি পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের শিশু। স্থানীয় বায়তুল আমান জামে মসজিদের অভিযুক্ত মোয়াজ্জেম আব্দুল কুদ্দুস চাকুরি সুবাধে মসজিদের পাশে একটি বাসা নিয়ে স্বপরিবারে থাকতেন। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশের পর থেকে স্বপরিবারে পলাতক রয়েছে তিনি ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া চান মিয়া সরকার বাড়ি বায়তুল আমান জামে মসজিদের এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ পায় গতকাল বুধবার।
স্বজনদের সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার রুবেল মিয়া একজন পাদুকা ব্যবসায়ী। তিনি ভৈরব উপজেলার জামালপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া চান মিয়া সরকারের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
প্রতিদিনের মত গতকাল বুধবার সকালে শিশুটির মা মসজিদের মক্তবে আরবি পড়তে যেতে বললে ভুক্তভোগী শিশু মক্তবে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে । পরবর্তীতে তার মা মক্তবে যেতে জোরাজরি করলে শিশুটি নিজে মরে যাবে বলে তার মাকে বলেন। এই পরই তার মা বুঝতে পারে তার মেয়ের সাথে কিছু হয়েছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে বলে মক্তবের মোয়াজ্জেম প্রতিদিনই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতো। গত মঙ্গলবার দুপুরেও শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে বুধবার রাতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনাটি জানার পর এলাকার সচেতন অভিভাবকরা জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন৷
এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর মা মৌসুমী বেগম বলেন, মসজিদে মক্তবে পড়তে গিয়ে আমার শিশু কন্যাকে প্রতিদিনই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। তাকে মেরে ফেলবে বলে কাউকে এসব কথা বলতে নিষেধ করেছে। তাই সে এতোদিন আমাকে এসব কথা বলেনি।
ঘটনায় অভিযুক্ত মোয়াজ্জেমের কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মসজিদের মক্তবের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ শুনেছি। তবে ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









