১৫ অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা ঘোষনার দাবিতে উত্তাল ছাত্র-জনতা। গত কয়েকদিন যাবত প্রতিদিন বিক্ষোভ সমাবেশ করছে এলাকাবাসী। ২০০৯ সালের গেজেট বাস্তবায়ন করে ভৈরবকে জেলা করার দাবি আন্দোলনকারীদের।
আজ বুধবার দুপুরে ভৈরবের শম্ভুপুর রেল গেইট এলাকায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্র জনতা। উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সম্ভুপুর রেলগেইট সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, ভৈরব জেলা বাস্তবায়ণের দাবিতে ছাত্রজনতা জড়ো হয়ে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের দুই কিলোমিটার দূরে শুম্ভপুর রেল গেইটে এলাকায় রেল লাইনের ওপর লাল কাপড় টাঙিয়ে ট্রেনটি বেলা ১.২১ মিনিটে থামিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ছাত্র জনতা তাদের দাবি জানিয়ে ৫-৭ মিনিট পর ভৈরব থানার পুলিশের সহযোগিতায় শুম্ভপুর এলাকা থেকে ট্রেনটি ভৈরব রেল স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এ সময় স্থানীয় ছাত্র জনতার নেতা রাজীব বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ভৈরবকে দেশের ৬৫ তম জেলায় রূপান্তর করা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত বিগত সরকার আমাদের দাবি পূরণ করেননি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে দাবি থাকবে অতি দ্রুত ভৈরবকে জেলা ঘোষণাসহ বাস্তবায়ন করবে। তা না হলে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে ভৈরবে সড়ক, রেল ও নৌপথ বন্ধ করে দেয়ার হুশিয়ারি দেন তিনি।
গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হয় কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তভূক্ত করা হচ্ছে। ভৈরববাসী ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তভূক্ত হতে চাইনা। কারন ঢাকার দূরত্ব ভৈরবের কাছে ও যাতায়ত সুবিধা ভাল অবস্থানে। তাছাড়া ২০০৯ সালে ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা করার জন্য একটি গেজেট করেছিল সরকার। তখন ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, কটিয়াদি, অস্টগ্রাম উপজেলাকে নিয়ে জেলা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে কটিয়াদি ও অস্টগ্রাম উপজেলা বাদ দিয়ে তিন উপজেলা নিয়েই জেলা করা হবে, বলেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। কিন্ত তিনি ২০১৩ সালে মারা গেলে জেলার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়।
এখন আবারও জেলার দাবি নিয়ে ভৈরবের সর্বস্তরের ছাত্র জনতা আন্দোলনে মাঠে নেমেছে। আন্দোলনকারীরা বলছে ভৈরব জেলা বাস্তবায়ন না করলে সড়ক, নৌ ও রেলপথ বন্ধ করে দেয়া হবে। এরই ধারাবহিকতায় গত কয়েকদিন যাবত ছাত্র জনতা বিক্ষোভ সমাবেশ করে যাচ্ছে। আজ নাসিরাবাদ ট্রেনটি থামিয়ে ট্রেনের ইন্জিনের ওপর উঠে ছাত্র জনতা শ্লোগান দেয়। পরে পুলিশের সহযোগীতায় ট্রেনটি ভৈরব রেলস্টেশনে নেয়ার পর গন্তব্যে চট্রগ্রাম ছেড়ে যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ জানান, জেলার দাবিতে ছাত্র জনতা নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করেন। ট্রেনটি শুম্ভপুর এলাকায় ৫-৭ মিনিটের মত থেমে ছিলো বলে তিনি জানান। পরে পুলিশের সহায়তায় ট্রেনটি গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।
Reporter Name 









