ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ। আঞ্চলিক সড়কে একঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ। ইউএনও অফিস ঘেরাও। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩৬ Time View

১২ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে এক সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড়ে ছাত্রজনতা আয়োজিত এসমাবেশে লোকজন অংশগ্রহন করে। এসময় ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে তারা ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করার দাবি করেন। সরকার ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনা না করলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন করার ঘোষনা দেয়। 

জানা গেছে, গতকাল ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল  জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে নতুন করে সংযুক্ত করা হবে। এর আগে দুটি জেলা ঢাকা বিভাগের সাথে সংযুক্ত ছিল। ইতিপূর্বে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের সময় সরকার কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে সংযুক্ত করতে চাইলে ভৈরব কিশোরগঞ্জবাসী তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলে। পরে সরকার সিদ্ধান্তটি বাতিল করে। 

এছাড়া ২০০৯ সালে ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে ভৈরববাসী তীব্র আন্দোলন করে। তৎসময়ে ভৈরববাসীর আন্দোলনের মুখে ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এর মাঠ প্রশাসন শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে  ভৈরবকে জেলা হিসেবে ঘোষনা করার লক্ষ্যে বিষয়টি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটির নাম দেয়া হয়। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। কমিটির কার্যপরিধিতে প্রশাসনিক বিভিন্ন দিকের পর্যালোচনা করে দ্রুত সুপারিশ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে রহস্যজনক কারনে ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা করার সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখা হয়। এরপর কয়েকমাস ভৈরববাসী জেলা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে। পরে উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয় আন্দোলন। 

১৬ বছর পর এখন কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে সংযুক্ত করার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  দেখে ভৈরববাসী আজ নতুন করে জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠে নামে। আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ও যুবসমাবেশের সভাপতি শাহারিয়ার, গণ অধিকার পরিষদ নেতা ইমতিয়াজ কাজল, ছাত্র নেতা জাহিদুল, হিমু, মহিউদ্দিন পরাগ প্রমূখ। স্থানীয় দুর্জয় মোড়ে তারা সমাবেশ করে, পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ ও ঘেরাও  করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় । এসময় ছাত্রজনতা ভৈরব – কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল এক ঘন্টা বন্ধ রাখে। সমাবেশে ছাত্রজনতার শ্লোগান ছিল, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগে যাবনা, কিশোরগঞ্জ জেলায় থাকবনা। ২০০৯ সালের গেজেট বাস্তবায়ন করে ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা ঘোষনা করতে হবে। ভৈরব জেলা চাই, জেলা চাই। সমাবেশে ছাত্রজনতা ঘোষনা করেন ভৈরবকে শীঘ্রই জেলা ঘোষনা না করলে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ। আঞ্চলিক সড়কে একঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ। ইউএনও অফিস ঘেরাও। 

Update Time : ১০:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

১২ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে এক সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড়ে ছাত্রজনতা আয়োজিত এসমাবেশে লোকজন অংশগ্রহন করে। এসময় ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে তারা ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করার দাবি করেন। সরকার ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনা না করলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন করার ঘোষনা দেয়। 

জানা গেছে, গতকাল ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল  জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে নতুন করে সংযুক্ত করা হবে। এর আগে দুটি জেলা ঢাকা বিভাগের সাথে সংযুক্ত ছিল। ইতিপূর্বে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের সময় সরকার কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে সংযুক্ত করতে চাইলে ভৈরব কিশোরগঞ্জবাসী তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলে। পরে সরকার সিদ্ধান্তটি বাতিল করে। 

এছাড়া ২০০৯ সালে ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে ভৈরববাসী তীব্র আন্দোলন করে। তৎসময়ে ভৈরববাসীর আন্দোলনের মুখে ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এর মাঠ প্রশাসন শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে  ভৈরবকে জেলা হিসেবে ঘোষনা করার লক্ষ্যে বিষয়টি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটির নাম দেয়া হয়। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। কমিটির কার্যপরিধিতে প্রশাসনিক বিভিন্ন দিকের পর্যালোচনা করে দ্রুত সুপারিশ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে রহস্যজনক কারনে ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা করার সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখা হয়। এরপর কয়েকমাস ভৈরববাসী জেলা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে। পরে উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয় আন্দোলন। 

১৬ বছর পর এখন কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে সংযুক্ত করার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  দেখে ভৈরববাসী আজ নতুন করে জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠে নামে। আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ও যুবসমাবেশের সভাপতি শাহারিয়ার, গণ অধিকার পরিষদ নেতা ইমতিয়াজ কাজল, ছাত্র নেতা জাহিদুল, হিমু, মহিউদ্দিন পরাগ প্রমূখ। স্থানীয় দুর্জয় মোড়ে তারা সমাবেশ করে, পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ ও ঘেরাও  করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় । এসময় ছাত্রজনতা ভৈরব – কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল এক ঘন্টা বন্ধ রাখে। সমাবেশে ছাত্রজনতার শ্লোগান ছিল, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগে যাবনা, কিশোরগঞ্জ জেলায় থাকবনা। ২০০৯ সালের গেজেট বাস্তবায়ন করে ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা ঘোষনা করতে হবে। ভৈরব জেলা চাই, জেলা চাই। সমাবেশে ছাত্রজনতা ঘোষনা করেন ভৈরবকে শীঘ্রই জেলা ঘোষনা না করলে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।