ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে  পরিষদের ১১ মেম্বারের অভিযোগ। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৪ Time View

২২ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে আগানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূন কবিরের  অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষদের ১১ জন মেম্বার জেলা প্রশাসক বরাবরে এক অভিযোগ দিয়েছেন। ২০২৫-২৬ ইং অর্থবছরে এডিপির উন্নয়ন প্রকল্পের ২৫ লাখ টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে বলা হয়। চেয়ারম্যান পরিষদের কোন সভা ছাড়া এককভাবে ১৭ লাখ টাকার টেন্ডার দেখিয়ে ও ৮ লাখ টাকা ভূয়া  কমিটির মাধ্যমে কাজ করার পায়তারা করছে। ইতিপূর্বে একাধিক উন্নয়নের কাজের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে মেম্বার জাহাংগীর যুগান্তরকে জানান। এছাড়া সাব- রেজিস্টার অফিস থেকে ১% এর ৯ লাখ টাকার কোন হদিস নেই। এর আগে ২০২২ সালে ২৪.৮৭ মেঃ টন চাল গরীব মানুষের নিকট বিতরণ না করে সাড়ে ১১ লাখ টাকা মূল্যের  চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে পরিষদের মেম্বারগন কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করলে মামলাটি দুদক তদন্ত করছে। এছাড়া রাস্তার মাটির কাজের জন্য সরকারীভাবে এলাকার শ্রমিকদেরকে ২০৭ টি সিম দেয়া হয়। শ্রমিকরা কাজশেষে প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে সিমে পাবে। প্রকল্পের কাজে দেখা যায় ২০৭ জন নয় ৫০/৬০ জন কাজ করে সবার হাজিরা দেখিয়ে বাকীদের টাকা চেয়ারম্যানের হাতে সিম রেখে তুলে নেয়।  এতে শ্রমিকদের   কয়েক লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন প্রতিবছর।  নিয়ম অনুযায়ী সিম থাকবে শ্রমিকদের হাতে, কিন্ত সিম কখনই চেয়ারম্যান তাদের হাতে দেয়না বলে মেম্বারগন অভিযোগে জানান। পরিষদের মেম্বারদের বেতন ভাতা তিনি নিয়মিত পরিষদ করেননা। দুই তিনমাস পর পর সভা ডাকেন। সভায় কোন মেম্বার সদস্য এসব কথা তাকে জিজ্ঞাসা করলে চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের সাথে  দুর্ব্যবহার করেন। ২০২৫ সালে টিআর কাবিখার ১৫ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। ২০২৪ সালে ১৫ টি প্রকল্পে ২৫/৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার পরিষদে  গ্রাম আদালতে  শালিস দরবার করলে যে ঘুস বেশী দিবেন তার পক্ষে রায় দেন তিনি। ন্যায় অন্যায়ের দিক তিনি বিবেচনা করেননা। ২০২৪ সালে চেয়ারম্যান হুমায়ূন সরকারী কর্মকর্তাদেরসহ ডিসি, ইউএনও’র  বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বললে তার কথার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোকশ করা হয়। উল্লেখ্য তিনি এলাকার ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে গত ইউপি নির্বাচনে তাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করা হলে তিনি মাত্র ৩০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ৫ আগস্টের পর উক্ত চেয়ারম্যান হুমায়ূন প্রতিদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদেরসহ আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালে তিনটি মামলায় তিনি তিনমাস জেল খেটেছেন বলে মেম্বারগন জানান। তার অপকর্ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সেবা গ্রহিতাগনসহ পরিষদের মেম্বারগন  অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পরিষদের মেম্বার জাহাংগীর আলম যুগান্তরকে বলেন,   তাকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।  তার অপকর্ম দুর্নীতির কারনে এলাকার উন্নয়ন ব্যহতসহ সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

এবিষয়ে চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, মেম্বারদের সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক। তাদেরকে অনৈতিক সু্বিধা দেয়না বলে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কাজ করতে গেলে কিছুটা ভুলভ্রান্তি হয়। মাসিক সভা পরিস্থিতির কারনে সবসময় করা হয়না। বিধি মোতাবেক সকল কাজ করেন তার দাবি। সেবা গ্রহিতাগন আপনাকে পরিষদের অফিসে নিয়মিত পায়না, এমন অভিযোগে তিনি বলেন সর্বক্ষণ আমি অফিসে বসে থাকব নাকি। গ্রাম আদালতে তিনি ঘুস নেন এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন তিনি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবিষয়ে বলেন, অভিযোগের কপি আমি এখনও পায়নি। মেম্বারগন যদি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকেন, তবে তিনি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারেন। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে  পরিষদের ১১ মেম্বারের অভিযোগ। 

Update Time : ০৯:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

২২ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে আগানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূন কবিরের  অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষদের ১১ জন মেম্বার জেলা প্রশাসক বরাবরে এক অভিযোগ দিয়েছেন। ২০২৫-২৬ ইং অর্থবছরে এডিপির উন্নয়ন প্রকল্পের ২৫ লাখ টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে বলা হয়। চেয়ারম্যান পরিষদের কোন সভা ছাড়া এককভাবে ১৭ লাখ টাকার টেন্ডার দেখিয়ে ও ৮ লাখ টাকা ভূয়া  কমিটির মাধ্যমে কাজ করার পায়তারা করছে। ইতিপূর্বে একাধিক উন্নয়নের কাজের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে মেম্বার জাহাংগীর যুগান্তরকে জানান। এছাড়া সাব- রেজিস্টার অফিস থেকে ১% এর ৯ লাখ টাকার কোন হদিস নেই। এর আগে ২০২২ সালে ২৪.৮৭ মেঃ টন চাল গরীব মানুষের নিকট বিতরণ না করে সাড়ে ১১ লাখ টাকা মূল্যের  চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে পরিষদের মেম্বারগন কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করলে মামলাটি দুদক তদন্ত করছে। এছাড়া রাস্তার মাটির কাজের জন্য সরকারীভাবে এলাকার শ্রমিকদেরকে ২০৭ টি সিম দেয়া হয়। শ্রমিকরা কাজশেষে প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে সিমে পাবে। প্রকল্পের কাজে দেখা যায় ২০৭ জন নয় ৫০/৬০ জন কাজ করে সবার হাজিরা দেখিয়ে বাকীদের টাকা চেয়ারম্যানের হাতে সিম রেখে তুলে নেয়।  এতে শ্রমিকদের   কয়েক লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন প্রতিবছর।  নিয়ম অনুযায়ী সিম থাকবে শ্রমিকদের হাতে, কিন্ত সিম কখনই চেয়ারম্যান তাদের হাতে দেয়না বলে মেম্বারগন অভিযোগে জানান। পরিষদের মেম্বারদের বেতন ভাতা তিনি নিয়মিত পরিষদ করেননা। দুই তিনমাস পর পর সভা ডাকেন। সভায় কোন মেম্বার সদস্য এসব কথা তাকে জিজ্ঞাসা করলে চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের সাথে  দুর্ব্যবহার করেন। ২০২৫ সালে টিআর কাবিখার ১৫ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। ২০২৪ সালে ১৫ টি প্রকল্পে ২৫/৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার পরিষদে  গ্রাম আদালতে  শালিস দরবার করলে যে ঘুস বেশী দিবেন তার পক্ষে রায় দেন তিনি। ন্যায় অন্যায়ের দিক তিনি বিবেচনা করেননা। ২০২৪ সালে চেয়ারম্যান হুমায়ূন সরকারী কর্মকর্তাদেরসহ ডিসি, ইউএনও’র  বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বললে তার কথার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোকশ করা হয়। উল্লেখ্য তিনি এলাকার ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে গত ইউপি নির্বাচনে তাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করা হলে তিনি মাত্র ৩০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ৫ আগস্টের পর উক্ত চেয়ারম্যান হুমায়ূন প্রতিদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদেরসহ আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালে তিনটি মামলায় তিনি তিনমাস জেল খেটেছেন বলে মেম্বারগন জানান। তার অপকর্ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সেবা গ্রহিতাগনসহ পরিষদের মেম্বারগন  অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পরিষদের মেম্বার জাহাংগীর আলম যুগান্তরকে বলেন,   তাকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।  তার অপকর্ম দুর্নীতির কারনে এলাকার উন্নয়ন ব্যহতসহ সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

এবিষয়ে চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, মেম্বারদের সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক। তাদেরকে অনৈতিক সু্বিধা দেয়না বলে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কাজ করতে গেলে কিছুটা ভুলভ্রান্তি হয়। মাসিক সভা পরিস্থিতির কারনে সবসময় করা হয়না। বিধি মোতাবেক সকল কাজ করেন তার দাবি। সেবা গ্রহিতাগন আপনাকে পরিষদের অফিসে নিয়মিত পায়না, এমন অভিযোগে তিনি বলেন সর্বক্ষণ আমি অফিসে বসে থাকব নাকি। গ্রাম আদালতে তিনি ঘুস নেন এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন তিনি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবিষয়ে বলেন, অভিযোগের কপি আমি এখনও পায়নি। মেম্বারগন যদি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকেন, তবে তিনি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারেন।