ভৈরবের তিনটি ডিপোতে জ্বালানী তেলের জন্য হাহাকার। ১০ জেলার  শতাধিক ট্যাংকলরি   অপেক্ষমান থাকলেও  চাহিদার তেল পাচ্ছেনা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ২১৭ Time View

৮ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে জ্বালানী তেলের জন্য হাহাকার চলছে। ১০ জেলার শতাধিক ট্যাংকলরি মেঘনা নদীর পাড়ে তেলডিপোঘাটে লাইনে অপেক্ষমান থাকলেও চাহিদার তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছেনা।  আজ রোববার রেশনিং করে পাম্পগুলিতে তেল দেয়া হলেও স্থানীয় ডিলার এজেন্সিগুলিকে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছেনা। তেলডিপো  কর্তৃপক্ষ বলছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক রেশনিং করে পাম্পগুলিতে  তেল সরবরাহ  দেয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় ডিলার  এজেন্টদেরকে আজ তেল সরবরাহ  না দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এজেন্ট মালিকগন বলছে এই নির্দেশের কারনে তেল সংকট তীব্র আকার ধারন করবে, অপরদিকে তারা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। 

জানা গেছে বানিজ্য বন্দরনগরী ভৈরবে জ্বালানী তেলের তিনটি ডিপো রয়েছে। ডিপোগুলি হলো পন্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী। বন্দরের মেঘনা নদীর পাড়ে এসব ডিপোর অবস্থান। এসব ডিপো থেকে ১০ টি জেলায় জ্বালানী তেল ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। তেল ব্যবসায় দুই ধরনের ডিলার রয়েছে। পাম্পের  ডিলার ও এজেন্ট ডিলার। ভৈরব থেকে যেসব জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয় সেসব জেলাগুলি হলো, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোেনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদি, গাজীপুর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম। 

ইরানের সাথে ইজরাইল – যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে দেশে জ্বালানী তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের ধারাবাহিকতায় প্রভাব পড়েছে ভৈরবের ডিপোগুলিতে।

আজ রোববার দুপুর ১২ টার দিকে মেঘনা পাড়ের তিনটি ডিপোতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক ট্যাংকলরি জ্বালানী তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্ত রেশনীং পদ্ধতি চালু করায় অনেকেই তেল নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। কারন ট্যাংকলরিতে তেল  ভর্তি না করে গন্তব্যে গেলে পরিবহন ব্যয়ে পোষবেনা। আবার কেউ কম তেল নিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় ২৭ জন এজেন্সি ডিলার তেল সরবরাহ নিতে এসে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বসে আছে। মনে হয়েছে তেলের জন্য যেন হাহাকার অবস্থা। ইরানের যুদ্ধ যেন তেলের সংকটময় অবস্থায় ফেলেছে। রোববার ভৈরবের তেলডিপোঘাটের দৃশ্য না দেখলে তেলের হাহাকার বুঝার কোন উপায় নেই। তেল নিতে এসে না পেয়ে অনেক ডিলার অফিসে চিৎকার চেচামেচি করতে দেখা যায়। 

ভৈরব ট্যাংকলরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জ্বালানী তেল সরবরাহে ডিপোতে কোন রেশনিং পদ্ধতি ছিলনা। আজ রোববার থেকে রেশনিংএ শুধু তেলের পাম্পগুলিতে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। রেশনিংএ চাহিদার তেল না পেলে ট্যাংকলরি অর্ধেক খালি রেখে গন্তব্যে গেলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আবার কম তেল নিয়ে গেলে স্ব স্ব এলাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। একারনে অনেক চালক রেশনিং তেল সরবরাহ নিচ্ছেনা। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ অহিদ মিয়া বলেন, আমরা এজেন্সি ডিলার মালিকরা সারা বছর তেল কেনাবেচা করি। এখন তেল সংকটকালে সারাবছর যারা তেল তেমন একটা  নেয়না তারাও তেল নিতে ডিপোতে ভীড় করছে। আজ রোববার কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে তেল না দিয়ে শুধু পাম্প মালিকদেরকে তেল দিচ্ছে যা অবিচার মনে করছি। এতে তেল সংকট আরও প্রকট হবে, তার দাবি।

 শেরপুর জেলা থেকে আসা ট্যাংকলরির চালক মিন্টু মিয়া বলেন, আমি গতরাতে ভৈরবে এসেছি। আমার চাহিদা ১৩ হাজার লিটার তেল, কিন্ত রেশনিংএ সাড়ে ৪ হাজার লিটার পাব। এত কম তেল নিয়ে এলাকায় গেলে ক্রেতাদের কি জবাব দিব। পিটুনী খেতে হবে, তাই তেল নিবনা। নরসিংদির ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ কলিম মিয়া ভৈরবের ডিপোতে তেল নিতে এসেছেন। তাদের তিনটি ফিলিং স্টেশনে সাড়ে ৪ হাজার তেল রেশনিংএ পাবে। তার প্রয়োজন ৩৯ হাজার লিটার। এনিয়ে অফিসে কথা বলেও ফল পাচ্ছেনা। তর্ক করছেন অফিসের কর্মকর্তার সাথে। পরে  অপেক্ষায় আছেন তেল নিতে। প্রাণ আর এফ এল কোম্পানীর ম্যানেজার এমদাদ হোসেন  ৯ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন। তার চাহিদা ৫০ হাজার লিটার কিন্ত চাহিদার তেল পায়নি। ফলে তাদের কোম্পানীর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। গাজীপুর থেকে হেলথ কেয়ার কোম্পানীর চালক মজনু মিয়া রেশনিংএ তেল পেয়েছেন ৯ হাজার লিটার, কিন্ত তার চাহিদা ৩৯ হাজার লিটার। তিনি তেলের জন্য চিৎকার করছেন। ভৈরবের জেনারেটর মালিক আবদুল্লাহ এক ড্রাম তেলের জন্য হাউমাউ করছে কিন্ত দিচ্ছেনা তেল।  এমনিভাবে শতাধিক ডিলার ডিপোঘাটে তেলের জন্য হাহাকার করছেন, চিৎকার করছেন। 

যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান এবিষয়ে জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোন রেশনিং ছিলনা। অনেক ডিলার অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করেছেন। আজ রোববার তার ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে জানান তিনি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে আজ শুধু বিভিন্ন জেলার পাম্প মালিকদের ট্যাংকলরিতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ দিতে। আগে যে পরিমান তেল নিয়েছে তার চেয়ে ২৫%  তেল কম দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ২৭ জন এজেন্ট ডিলারগনকে আজ তেল না দিতে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ প্রদান করেছেন। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, একই কথা। তার ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। রোববার পাম্প মালিক ছাড়া এজেন্ট ডিলারকে তেল দেয়া যাবেনা বলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। তার ডিপোতে ৩০ জন এজেন্ট ডিলার আছে। তারা পরে তেল পাবেন বলে তিনি জানান।  চট্রগ্রাম থেকে তেলের জাহাজ শীঘ্রই ভৈরবে আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে কিছুই জানেননা। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজুল ইসলাম বলেন, আমার ডিপো থেকে আজ তেল সরবরাহ বন্ধ। তার ডিপোতে ২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। ট্যাংকলরিতে তার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ দিতে পারেননা। তার এজেন্ট ডিলার সংখ্যা ৩০ জন।  কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  এজেন্ট ডিলারগনকে রোববার তেল দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবের তিনটি ডিপোতে জ্বালানী তেলের জন্য হাহাকার। ১০ জেলার  শতাধিক ট্যাংকলরি   অপেক্ষমান থাকলেও  চাহিদার তেল পাচ্ছেনা।

Update Time : ০৯:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

৮ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে জ্বালানী তেলের জন্য হাহাকার চলছে। ১০ জেলার শতাধিক ট্যাংকলরি মেঘনা নদীর পাড়ে তেলডিপোঘাটে লাইনে অপেক্ষমান থাকলেও চাহিদার তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছেনা।  আজ রোববার রেশনিং করে পাম্পগুলিতে তেল দেয়া হলেও স্থানীয় ডিলার এজেন্সিগুলিকে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছেনা। তেলডিপো  কর্তৃপক্ষ বলছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক রেশনিং করে পাম্পগুলিতে  তেল সরবরাহ  দেয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় ডিলার  এজেন্টদেরকে আজ তেল সরবরাহ  না দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এজেন্ট মালিকগন বলছে এই নির্দেশের কারনে তেল সংকট তীব্র আকার ধারন করবে, অপরদিকে তারা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। 

জানা গেছে বানিজ্য বন্দরনগরী ভৈরবে জ্বালানী তেলের তিনটি ডিপো রয়েছে। ডিপোগুলি হলো পন্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী। বন্দরের মেঘনা নদীর পাড়ে এসব ডিপোর অবস্থান। এসব ডিপো থেকে ১০ টি জেলায় জ্বালানী তেল ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। তেল ব্যবসায় দুই ধরনের ডিলার রয়েছে। পাম্পের  ডিলার ও এজেন্ট ডিলার। ভৈরব থেকে যেসব জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয় সেসব জেলাগুলি হলো, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোেনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদি, গাজীপুর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম। 

ইরানের সাথে ইজরাইল – যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে দেশে জ্বালানী তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের ধারাবাহিকতায় প্রভাব পড়েছে ভৈরবের ডিপোগুলিতে।

আজ রোববার দুপুর ১২ টার দিকে মেঘনা পাড়ের তিনটি ডিপোতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক ট্যাংকলরি জ্বালানী তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্ত রেশনীং পদ্ধতি চালু করায় অনেকেই তেল নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। কারন ট্যাংকলরিতে তেল  ভর্তি না করে গন্তব্যে গেলে পরিবহন ব্যয়ে পোষবেনা। আবার কেউ কম তেল নিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় ২৭ জন এজেন্সি ডিলার তেল সরবরাহ নিতে এসে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বসে আছে। মনে হয়েছে তেলের জন্য যেন হাহাকার অবস্থা। ইরানের যুদ্ধ যেন তেলের সংকটময় অবস্থায় ফেলেছে। রোববার ভৈরবের তেলডিপোঘাটের দৃশ্য না দেখলে তেলের হাহাকার বুঝার কোন উপায় নেই। তেল নিতে এসে না পেয়ে অনেক ডিলার অফিসে চিৎকার চেচামেচি করতে দেখা যায়। 

ভৈরব ট্যাংকলরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জ্বালানী তেল সরবরাহে ডিপোতে কোন রেশনিং পদ্ধতি ছিলনা। আজ রোববার থেকে রেশনিংএ শুধু তেলের পাম্পগুলিতে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। রেশনিংএ চাহিদার তেল না পেলে ট্যাংকলরি অর্ধেক খালি রেখে গন্তব্যে গেলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আবার কম তেল নিয়ে গেলে স্ব স্ব এলাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। একারনে অনেক চালক রেশনিং তেল সরবরাহ নিচ্ছেনা। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ অহিদ মিয়া বলেন, আমরা এজেন্সি ডিলার মালিকরা সারা বছর তেল কেনাবেচা করি। এখন তেল সংকটকালে সারাবছর যারা তেল তেমন একটা  নেয়না তারাও তেল নিতে ডিপোতে ভীড় করছে। আজ রোববার কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে তেল না দিয়ে শুধু পাম্প মালিকদেরকে তেল দিচ্ছে যা অবিচার মনে করছি। এতে তেল সংকট আরও প্রকট হবে, তার দাবি।

 শেরপুর জেলা থেকে আসা ট্যাংকলরির চালক মিন্টু মিয়া বলেন, আমি গতরাতে ভৈরবে এসেছি। আমার চাহিদা ১৩ হাজার লিটার তেল, কিন্ত রেশনিংএ সাড়ে ৪ হাজার লিটার পাব। এত কম তেল নিয়ে এলাকায় গেলে ক্রেতাদের কি জবাব দিব। পিটুনী খেতে হবে, তাই তেল নিবনা। নরসিংদির ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ কলিম মিয়া ভৈরবের ডিপোতে তেল নিতে এসেছেন। তাদের তিনটি ফিলিং স্টেশনে সাড়ে ৪ হাজার তেল রেশনিংএ পাবে। তার প্রয়োজন ৩৯ হাজার লিটার। এনিয়ে অফিসে কথা বলেও ফল পাচ্ছেনা। তর্ক করছেন অফিসের কর্মকর্তার সাথে। পরে  অপেক্ষায় আছেন তেল নিতে। প্রাণ আর এফ এল কোম্পানীর ম্যানেজার এমদাদ হোসেন  ৯ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন। তার চাহিদা ৫০ হাজার লিটার কিন্ত চাহিদার তেল পায়নি। ফলে তাদের কোম্পানীর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। গাজীপুর থেকে হেলথ কেয়ার কোম্পানীর চালক মজনু মিয়া রেশনিংএ তেল পেয়েছেন ৯ হাজার লিটার, কিন্ত তার চাহিদা ৩৯ হাজার লিটার। তিনি তেলের জন্য চিৎকার করছেন। ভৈরবের জেনারেটর মালিক আবদুল্লাহ এক ড্রাম তেলের জন্য হাউমাউ করছে কিন্ত দিচ্ছেনা তেল।  এমনিভাবে শতাধিক ডিলার ডিপোঘাটে তেলের জন্য হাহাকার করছেন, চিৎকার করছেন। 

যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান এবিষয়ে জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোন রেশনিং ছিলনা। অনেক ডিলার অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করেছেন। আজ রোববার তার ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে জানান তিনি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে আজ শুধু বিভিন্ন জেলার পাম্প মালিকদের ট্যাংকলরিতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ দিতে। আগে যে পরিমান তেল নিয়েছে তার চেয়ে ২৫%  তেল কম দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ২৭ জন এজেন্ট ডিলারগনকে আজ তেল না দিতে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ প্রদান করেছেন। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, একই কথা। তার ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। রোববার পাম্প মালিক ছাড়া এজেন্ট ডিলারকে তেল দেয়া যাবেনা বলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। তার ডিপোতে ৩০ জন এজেন্ট ডিলার আছে। তারা পরে তেল পাবেন বলে তিনি জানান।  চট্রগ্রাম থেকে তেলের জাহাজ শীঘ্রই ভৈরবে আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে কিছুই জানেননা। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজুল ইসলাম বলেন, আমার ডিপো থেকে আজ তেল সরবরাহ বন্ধ। তার ডিপোতে ২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। ট্যাংকলরিতে তার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ দিতে পারেননা। তার এজেন্ট ডিলার সংখ্যা ৩০ জন।  কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  এজেন্ট ডিলারগনকে রোববার তেল দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।