ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে  জ্বালানী তেল সংকট। চাহিদার তেল পাচ্ছেনা গাড়ী চালকরা। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৬৩ Time View

 ৬ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে চাহিদা মতে জ্বালানী তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিলিং স্টেশন থেকে তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। এতে করে তাদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে  না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা । 

আজ শুক্রবার সকালে থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস,পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভীঁড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। 

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন।

উত্তরা থেকে যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাবেন প্রাইভেটকার চালক মো.রাজু৷ তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকী কিলো গাড়ি কিভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। 

মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২শত টাকার বেশি জ্বালানি তৈল দিচ্ছে না। আমার চাহিদা মত তেল পায়নি।  তৈল তো খাবার জিনিস না বেশি নিয়ে কি করবো। 

আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রায়হান মিয়া বলেন, আমি বাইকের জন্য ফুল ট্যাংকি করতে আসছি কিন্তু পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি করতে দেয়নি। আমাকে মাত্র ৫ শত টাকার তৈল দিয়েছে৷ 

ঔষধ কোম্পানি বিক্রয় কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের তো সবসময় মার্কেটে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়। কিন্ত আমরা সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না। 

এ বিষয়ে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার আহমেদ জিসান বলেন, আমাদের দেশের জ্বালানি চাহিদা মত সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার যেন যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে ১/২ মাসের জন্য জ্বালানি তেল মজুদ রাখেন। জ্বালানী তেল জরুরী পণ্য, তাই সরকারকে এবিষয়ে নজর রাখতে হবে। 

ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি কিন্তু সামনের সপ্তাহে কি পরিমাণ জ্বালানি পাবো সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে  জ্বালানী তেল সংকট। চাহিদার তেল পাচ্ছেনা গাড়ী চালকরা। 

Update Time : ১০:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 ৬ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে চাহিদা মতে জ্বালানী তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিলিং স্টেশন থেকে তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। এতে করে তাদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে  না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা । 

আজ শুক্রবার সকালে থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস,পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভীঁড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। 

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন।

উত্তরা থেকে যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাবেন প্রাইভেটকার চালক মো.রাজু৷ তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকী কিলো গাড়ি কিভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। 

মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২শত টাকার বেশি জ্বালানি তৈল দিচ্ছে না। আমার চাহিদা মত তেল পায়নি।  তৈল তো খাবার জিনিস না বেশি নিয়ে কি করবো। 

আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রায়হান মিয়া বলেন, আমি বাইকের জন্য ফুল ট্যাংকি করতে আসছি কিন্তু পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি করতে দেয়নি। আমাকে মাত্র ৫ শত টাকার তৈল দিয়েছে৷ 

ঔষধ কোম্পানি বিক্রয় কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের তো সবসময় মার্কেটে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়। কিন্ত আমরা সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না। 

এ বিষয়ে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার আহমেদ জিসান বলেন, আমাদের দেশের জ্বালানি চাহিদা মত সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার যেন যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে ১/২ মাসের জন্য জ্বালানি তেল মজুদ রাখেন। জ্বালানী তেল জরুরী পণ্য, তাই সরকারকে এবিষয়ে নজর রাখতে হবে। 

ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি কিন্তু সামনের সপ্তাহে কি পরিমাণ জ্বালানি পাবো সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।