৪ মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে ব্যাংক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন (৩০) নিখোঁজের চারদিন পর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি জনতা ব্যাংক লিঃ, ভৈরব বাজার শাখায় অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত রোববার ( ১ মার্চ) সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর আজ বুধবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর উল্টোদিকে রেললাইনের নিকটে একটি ঝোপের ভিতর থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত আলমগীর হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ সরদারের ছেলে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। লাশ থানায় আছে। কাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক অফিসার আলমগীর হোসেন গত বছর আগস্ট মাসে ঢাকার একটি শাখা থেকে বদলী হয়ে ভৈরব শাখার জনতা ব্যাংকে যোগদান করেন। গত ৫ বছর আগে তিনি ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় তাসলিমা আক্তার নামের এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। তাসলিমা ভৈরবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাদের একটি সন্তান আছে। আলমগীর তার পরিবার নিয়ে শুশুরবাড়ী কালিকাপ্রসাদ এলাকায় থাকতেন। সূত্র জানায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মাঝেমধ্য তার কলহের সৃষ্টি হত। তবে নিখোঁজের দিন বা আগেরদিন কলহ হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
নিহত আলমগীরের স্ত্রী শিক্ষিকা তাছলিমা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন গত রোববার সকালে আমার স্বামী ব্যাংকে যাওয়ার উদ্যেশে বাসা থেকে বের হয়। রাত পর্যন্ত ওইদিন তিনি বাসায় না ফেরাতে আমরা ব্যাংকে খবর নিয়ে জানতে পারি তিনি ব্যাংকে যায়নি। এদিন রাতে তার মোবাইল বন্ধ পেলে সন্দেহ হয় আমাদের। পরে অনেক স্থানে খোঁজাখোজিঁ করার পর তার খোঁজ না পেয়ে রাতেই থানায় একটি জিডি করি। এরপর গত ৪ দিন যাবত পুলিশ ও আমরা অনেক খোঁজাখোঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। আজ বুধবার এলাকার মাটি কাটার কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেয়।
তাছলিমা আক্তার স্বীকার করেন, তার স্বামীর সাথে মাঝেমধ্য পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া মনোমালিন্য হত। তবে ঘটনার দিন কোন ঝগড়া হয়নি বলে তিনি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের ভাই ওয়াহিদুজ্জামানসহ তার পরিবারের সদস্যরা শায়েস্তাগঞ্জ থেকে থানায় ছুটে আসেন। এবিষয়ে তার ভাই ওয়াহিদুজ্জামান জানান, আমার ভাইবৌয়ের কাছ থেকে মোবাইলে খবর পেয়ে আমি ভৈরবে আসি। তিনি বলেন, আমরা বাড়ীতে থাকি। ছোট ভাই চাকরির সুবাদে পরিবারসহ ভৈরবে থাকে। সে বিয়ে করেছে ভৈরবে। আমার ভাইয়ের কোন শত্রু নেই। স্ত্রীর সাথে প্রায় সময় ঝগড়া করলে আমাকে জানায়। তবে সে আত্মহত্যা করতে পারেনা। আমার ধারনা তাকে কেউ অপহরণ করে হত্যা করেছে। পুলিশের তদন্তে সবই উদঘাটন হতে পারে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ৭ টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আলমগীরের বাড়ী শায়েস্তাগঞ্জ হলেও ব্যাংকে চাকরির সুবাধে স্ত্রীসহ ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় থাকত। স্ত্রীও শিক্ষকতা করে ভৈরবে। তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে সেখানে কোন ঝামেলায় পড়ে ৬ মাস আগে বদলী হয়ে ভৈরব শাখায় যোগদান করেন। আবার স্ত্রীর সাথেও মনোমালিন্য ঝগড়া হত মাঝেমধ্য। লাশের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। তবে তার শরীরে আঘাতের কোন চিন্হ পাওয়া যায়নি। লাশ দেখে মনে হচ্ছে কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ঝোপের ভিতর লাশ থাকায় কেউ দেখেনি। আজ দুর্গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী লাশের খোঁজ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









