৩ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই ট্রেন থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য খালাস হচ্ছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। চোরাচালান রোধে যেখানে পুলিশের কঠোর হওয়ার কথা, সেখানে খোদ রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি’র ( রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) কিছু সদস্য এই চোরাচালানে সহযোগিতা করছে। ট্রেন থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পুলিশের সামনে নামানো এবং পুলিশের সহযোগীতায় পাচারের ঘটনা রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেলেও পুলিশ বলছে কিছুই জানা নেই। এঘটনায় সচেতন মহলের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে ভৈরব রেলওয়ে কতিপয় অসাধু পুলিশ মাসোহারা ভিত্তিতে চোরাকারবারিরা রেলপথ দিয়ে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করতে সহযোগিতা করছে। অবৈধ ভাবে ভারত থেকে রেলপথে পণ্য আনায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় পণ্য পরিবহন বেড়ে গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেন-বিশেষ করে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে থামলে একটি চোরাচালানী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেন থামিয়ে বস্তাভর্তি ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, চাল, জিরা, আতশবাজি ও মাদকদ্রব্য নামানো হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পণ্য খালাসের সময় রেলওয়ে পুলিশের অসৎ সদস্যগন সেখানে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়, যা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও আউটার সিগন্যালে ট্রেন থামিয়ে পণ্য নামানোর পর দ্রুত অটোরিকশায় করে এসব অবৈধ পণ্য গন্তব্যে নিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারি সদস্যের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান, মাদক থেকে শুরু করে কসমেটিকস, শাড়ি বা জিরা—সব পণ্যেরই চুক্তি আছে পুলিশের সাথে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি স্টেশনে লোক সেট করা থাকে। সব জায়গাতেই নির্দিষ্ট হারে টাকা (মাসোহারা) দিতে হয়, তাই কেউ বাধা দেয় না।
স্থানীয়রা বলেন, সবাই দেখেও কিছু বলে না। পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও না দেখার ভান করে। সাধারণ কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো তাকেই বিপদে পড়তে হয়। মমিনুল হক নামের এক ট্রেনযাত্রী বলেন লোকাল ট্রেনে প্রতিদিন ভারতীয় পণ্য ভৈরব স্টেশনে পুলিশের সামনেই নামানো হয়। পুলিশের পাহারায় এসব পণ্য অটোরিক্সায় তুলে দেয়া হয়।
ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অফিসার ইনচার্জ ( ইন্সপেক্টর) হাসান মোহাম্মদ এবিষয়ে বলেন, আমার ডিপার্টমেন্টর কেউ জড়িত আছে বলে আমার জানা নেই। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখব, কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। রেলওয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। সি সি ক্যামেরা আমি চেক করে দেখব। অপরাধে কোন পুলিশকে জড়িত পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









