২৩ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে ওষধ কোম্পানীর কর্মচারী নাঈম মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। আজ সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্যাট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপহরণের বিস্তারিত ঘটনা জানিয়েছেন অপহৃত নাঈম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) তালেব হোসেন জবানবন্দি দেয়ার কথা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অপহরণ মামলায় সাধারণত ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহন করতে হয়। জবানবন্দিতে অপহৃত নাঈম মিয়া ঘটনার দিন তাকে কারা, কিভাবে, কখন অপহরণ করে গোপন স্থানে নিয়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তার বিবরণ দেন। আদালতের বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
গত শনিবার দুপুরে ওষধ কোম্পানীর কর্মচারী নাঈম মিয়াকে ভৈরবের একটি চক্র দিনেদুপুরে শহরের হাসপাতাল রোড থেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে শিকল দিয়ে বন্দি করে রাখে। পরে অপহরণকারীরা নাঈমের স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দাবির টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তারপর তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি পুলিশকে ঘটনা অবহিত করলে ওইদিন রাত ২ টায় তাকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। এরা হলো খোকন মাহমুদ, আবুল কাশেম, রাজিব মিয়া ও শাহ আলম। পরদিন রোববার নাঈম মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে ভৈরব থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। তবে আসামীরা অপহরণের কথা অস্বীকার করে। আসামীদের দাবি ঘটনাটি নারীঘটিত প্রেমের। আসামী আবুল কাশেমের স্ত্রী ছিল মামলার বাদী সাজিয়া খানম। পরকিয়া করে সে কাশেমের টাকা পয়সা, স্বর্নলংকার নিয়ে নাঈমের সাথে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করে। এসব টাকা গহনা উদ্ধার করতে নাঈমকে ঘটনার দিন আটক করেছিল তারা। আসামী খোকন মাহমুদ বলেন, আমাদের ভুলের কারনে পরকীয়া নারী সাজিয়া খানম নিশি আমাদেরকে ফাসিঁয়ে দিয়েছে। তার দাবি নাঈমকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে এমন ঘটনা ঘটতনা। এখন মিথ্যা অপহরণের শিকার হলাম আমরা।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ঘটনাটি বিশাল অপরাধ। নাঈমকে অপহরণ করে গোপন স্থানে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা ৪ জন। বাদীর অভিযোগ পেয়ে ঘটনার দিন দুই ঘন্টার মধ্য পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার করে। মামলার তদন্ত কাজ সুষ্ঠুভাবে করতেই আজ সোমবার তার জবানবন্দি আদালতে নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









