১৩ ডিসেম্বর, বিশেষ প্রতিনিধি
সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা -২০২৫ গত ১৩ নভেম্বর প্রকাশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালাটি তিনদিন পর ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছিল। নীতিমালাটি প্রকাশের পর সারাদেশের সার ডিলারদের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সরকার বলছে কৃষকদের নিকট সময়মত সহজলভ্য ও ডিলারদের সিন্ডিকেট ভাঙতে নীতিমালাটি করা হয়েছে। অপরদিকে ডিলারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ) এর নেতৃবৃন্দসহ ডিলারগনের দাবি এই নীতিমালা কার্যকর হলে সারাদেশে সার নিয়ে বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ডিলারগন বলছে ২০০৯ সালের নীতিমালাটিতে কোন রকম অসংগতি নেই। কৃষকগন সঠিক সময়ে সরকারী মূল্যে সার পাচ্ছে।
২০২৫ সালের নতুন নীতিমালাটি ডিলারগন মানতে না পেরে ডিলার সংগঠনের পক্ষে কয়েকজন সার ডিলার নীতিমালাটি স্থগিত করতে উচ্চ আদালত হাইকোর্টে গত কয়েকদিন আগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। পরে হাইকোর্টের ৩৪ নং কোর্টের বেঞ্চের বিচারকদ্বয় রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। এরপর ডিলারগন এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত বিচারপতি রেজাউল হক এর আদালতে আপীল করলে ( আপীল মামলা নং ১০৫১/২০২৫) এবিষয়ে গত ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নতুন নীতিমালা-২৫ চার মাসের জন্য স্থগিত আদেশ দেন। বিষয়টি আজ শনিবার নিশ্বিত করেছেন ডিলার সংগঠন বিএফএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ওয়ালিউর রহমান।
এবিষয়ে বিএফএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ওয়ালিউর রহমান জানান, সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনা বা মতামত না নিয়েই নতুন নীতিমালা -২৫ কার্যকর করতে উদ্যেগ গ্রহন করে। এতে ডিলারগন সারের ব্যবসায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, অপরদিকে দেশে সার বিতরণে বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন সরকার গত ২০ বছর যাবত ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করছেনা। ২০ বছরে পরিবহন ব্যয়, ঘর ভাড়া, কর্মচারি বেতন, ব্যাংক সুদ বেড়েছে। ফলে ডিলারগন সার বিক্রিতে লোকসানের সম্মূখীন। কৃষকদের সেবা করতেই ডিলারগন তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালাতে প্রতিটি ইউনিয়ন / পৌরসভা এলাকায় নতুন করে আরও দুজন ডিলার নিয়োগ দেয়া হবে কিন্ত সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি হবেনা। এছাড়াও প্রতিটি ডিলারের তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থাকতে হবে যা অযৌক্তিক। এতে ডিলারদের ব্যয় বাড়বে কিন্ত মুনাফা কমবে। অপরদিকে বর্তমান খুচরা ডিলার বাতিল হবে। দেশে প্রায় ৪৫/৫০ হাজার খুচরা ডিলার আছে যারা সার ব্যবসা করে সংসার চালায়। খুচরা ডিলারগন পথে বসতে হবে। এছাড়া দেশের বিএডিসির বীজ ডিলারকে একত্রিকরণ করে বিসিআইসি’র ডিলারদের সাথে সমান করতে নীতিমালায় আছে। আরও দুঃখজনক বিষয় ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করতে বলা হয়েছে। আগের ডিলারগন ২ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ডিলারশীপ নিয়েছে কিন্ত এখন তাদেরকে আরও বাড়তি তিনলাখ টাকা জামানত দিতে হবে। তিনি বলেন আগের নীতিমালা অনুযায়ী দেশে কোনরকম সার সংকট নেই। সরকার মাসিক চাহিদার সার সময়মত না দিলে মাঝেমধ্য কোন কোন এলাকায় সারের অভাব দেখা দেয় যা সাময়িক সময়। নতুন নীতিমালাটি করার সময় আমাদের কোন মতামত গ্রহন করেননি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়। একারনে আমাদের পক্ষ থেকে নতুন নীতিমালাটি স্থগিত করতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করি। গত ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত মামলার শুনানী শেষে নতুন নীতিমালাটি চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন বলে জানান।
Reporter Name 









