সার ডিলার নিয়োগ নতুন নীতিমালা প্রকাশ। প্রতিটি ইউনিয়ন – পৌর এলাকায় তিনজন ডিলার থাকতে হবে। খুচরা ডিলার থাকবেনা। জামানত হবে ৫ লাখ টাকা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৩১ Time View


১৪ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি।
সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা -২০২৫ প্রকাশ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নীতিমালাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষর করার পর রাতেই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইডে প্রকাশিত হয় ( যার স্মারক নং ১২.০০০০০০.০৩১.৪০.০০১.২৫-৮২)।
নীতিমালা সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালাটি সময়োপযোগী ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে প্রণীত। নতুন নীতিমালার আওতায় বিসিআইসি ও বিএডিসি’র দুইটি নীতিমালা থাকবেনা। এক নীতিমালায় দুই প্রতিষ্ঠানের ডিলার থাকবে। সব ডিলার নিয়োজিত থাকবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আগামী ১৬ নভেম্বর নতুন নীতিমালাটি কার্যকর হবে।
নীতিমালাতে বলা হয়েছে একই পরিবারের একাধিক ডিলার থাকতে পারবেনা। প্রতিটি ইউনিয়নে ও পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিনজন করে ডিলার থাকবে। তবে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রয়োজন মনে করলে চাহিদা অনুযায়ী ডিলার বাড়ানো যাবে। বর্তমান বিদ্যমান ২০০৯ এর সারের নীতিমালায় বা তার আগে যারা সার ডিলার আছেন তাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হবেনা। অর্থাৎ পুরাতন ডিলারদের মধ্য কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অভিযোগ না থাকলে তাদের ডিলারশীপ বহাল থাকবে। কোন উপজেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বর্তমান নতুন নীতিমালায় ডিলার সংখ্যা কম থাকলে সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ হবে, আর বেশী থাকলে তাদেরকে সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয় করা হলে সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ হবেনা। ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এখন ৫ লাখ টাকা করা হয়। পুরাতন ডিলারগনের আগের ২ লাখ টাকা জামানত থাকলেও এখন আরও ৩ লাখ টাকা নতুন করে জামানত দিয়ে চুক্তি করতে হবে। নতুন নীতিমালায় খুচরা ডিলার থাকবেনা, তবে বর্তমানে যারা খুচরা ডিলার আছেন তারা আগামী ৩১ মার্চ -২৬ পর্যন্ত দায়-দেনা নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত খুচরা সার ডিলার সার বেচাকেনা করতে পারবেন। এরপর খুচরা ডিলার বাতিল হবে। নতুন ডিলারের আবেদন করলে আবেদনকারী এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। প্রত্যেক আবেদনকারী আবেদনপত্রের সাথে আবেদন ফি বাবত ২ হাজার টাকা ( অফেরতযোগ্য) ও আনেষ্টমানি বাবত ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার / ডিমান্ড ড্রাফট ( ফেরতযোগ্য) সংযোজন করতে হবে। আবেদনকারীগন নিজ নিজ জেলার জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এর নিকট আবেদন জমা দিতে হবে। প্রত্যেক ডিলার ২ বছর অন্তর ডিলারশীপ নবায়ন করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ও জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং প্রতি বিভাগে বিভাগীয় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থাকবে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সার ডিলার সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকবে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্র / গুদাম তিনটি করে থাকতে হবে। এই নীতিমালাতে সার বরাদ্দ, উত্তোলন, কৃষকদের নিকট বিতরণ পদ্ধতি, নিয়োগের নিয়মকানুন, অভিযোগ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ডিলারশীপ প্রত্যাহার, বাতিল, মৃত্যুজনিত কারনে ডিলারশীপ হস্তান্তর, সাময়িক ডিলারশীপ প্রদান, নীতিমালার পরিধি ও কার্যকরিতা, নীতিমালার উদ্যেশ্য, ডিলার সংখ্যা ও কার্যএলাকা, ডিলারশিপের আবেদনকারীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, নতুন ডিলার আবেদনে কি কি কাগজপত্র লাগবে তার ব্যাখা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, বিভিন্ন কমিটির পরিধি বা কার্যক্রম কি হবে সবকিছু উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সারের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে “সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয়ক ও পরামর্শক কমিটি”র একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় কৃষি মন্ত্রণালয়ে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেঃ জেঃ ( অবঃ) মোঃ জাহাংগীর আলম চৌধুরী। এসভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগন, বিসিআইসি ও বিএডিসি’র চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ)’র প্রশসাক ও সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি গণ উপস্থিত ছিলেন। সেদিনের সভায় সারের খসড়া নতুন নীতিমালাটি অনুমোদন হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চুরান্তভাবে প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে সারাদেশে বিসিআইসি’র ডিলার সংখ্যা ৫৬১৪ জন ও বিএডিসির ডিলার সংখ্যা ৫২০০ জন। তার মধ্য সারা দেশে তদন্ত অনুযায়ী রেড-১ নীতিমালা লংঘন ও অনিয়মের দায়ে দোষী ১৪৭ জন, রেড-২ নীতিমালা লংঘন করে নিয়োগের সংখ্যা ২১৬১ জন, রেড-৩ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দোষী -৯ জন, অনিয়মের কারনে একবার দোষী ৩৪৮ জন, নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়ার পর কোন প্রকার অনিয়মের অভিযুক্ত নয় এমন ডিলার সংখ্যা ৮১৪১ জন। সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভার রেজুলেশনে এই তথ্যটি পাওয়া যায়।
সারাদেশের বৃহৎ সার সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ) নতুন নীতিমালার বিরোধীতা করছেন। এই নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার বিসিআইসির সার ডিলারগন আন্দোলন, সমাবেশ, স্মারকলিপি দিয়েছেন। এইসব বিরোধীতার মধ্যই গতকাল নতুন নীতিমালাটি প্রকাশ হয়।
এবিষয়ে বিএফএ’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জনপদ সংবাদকে বলেন, আমরা নতুন নীতিমালার বিপক্ষে নয়। তবে নীতিমালাটি বোরো মৌসুমের পর আগামী মে-জুন মাসে কার্যকর করা ও নীতিমালার কিছু ধারা উপধারায় ভুলভ্রান্তি আছে। বিদ্যমান ২০০৯ এর নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারগন সুষ্ঠুভাবে সার কৃষকদের নিকট সরকারী মূল্য বিতরণ করছে। নতুন নীতিমালায় ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। গত ২০ বছরে পরিবহন ভাড়াসহ অনেককিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিলারগন লোকসান দিয়ে সার বিক্রি করে সেবা করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একজনের স্থলে আরও দুজন ডিলার নিয়োগ দেয়া হলেও সারের বরাদ্দ বাড়বেনা। বরাদ্দের সার তিনভাগে বন্টন হবে। আবার ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে, ৫ লাখ করা হয় যা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাই আমাদের সাথে আলোচনা করে মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ছিল।
বিএফএ’র সাবেক ভাইস- চেয়ারম্যান মোঃ শাহজালাল হোসেন বলেন, খুচরা ডিলার বাতিল করে প্রত্যেক ডিলারের তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র করলে ডিলারদের ব্যয় বাড়বে কিন্ত আয় কমে যাবে। খুচরা ডিলারগনের কাছে বর্তমান ডিলারগন সার বিক্রির কোটি কোটি টাকা পাওনা আছে । তাদের বাতিল করলে ডিলারদের বকেয়া টাকা আর পাবেনা। তিনি বলেন নতুন নীতিমালা কার্যকর করলে আগামী বোরো মৌসুমে সার নিয়ে দেশে বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা,সিটি কর্পোরেশনে একজন করে নতুন ডিলার দিতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে খুচরা ডিলার বাতিল করা সঠিক হবেনা বলে তিনি মত দেন।
বিএফএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান বকুল বলেন, সরকার চাহিদার সার ডিলারদেরকে সময়মত সরবরাহ দিতে পারেনা। নতুন নীতিমালায় কি উপকার হবে। তিনি বেসরকারীভাবে সার আমদানীর কোটা বাড়ানোর দাবি করেন।
এবিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোঃ খোরশেদ আলমের সাথে মোবাইলে কথা হলে, তিনি বলেন, দেশে সারের নতুন নীতিমালা করা সরকারী সিদ্ধান্ত। কৃষকদের দ্বারগোড়ায় সহজে সরকারী দামে দ্রুত সার সরবরাহ করা ও বিতরণ নিশ্চিত করাসহ দেশের মঙ্গলের জন্যই নতুন নীতিমালা করা হয়। ডিলারদের দাবির কমিশনের বিষয়টি সরকারের চিন্তাভাবনায় আছে। বিষয়টি অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগের নীতিমালাতে কিছু ক্রটি আছে, তাই নীতিমালাটি সংশোধন, সংযোজন করা হয় বলে তিনি জানান। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছুই পরিবর্তন, পরিমার্জন করতে হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সার ডিলার নিয়োগ নতুন নীতিমালা প্রকাশ। প্রতিটি ইউনিয়ন – পৌর এলাকায় তিনজন ডিলার থাকতে হবে। খুচরা ডিলার থাকবেনা। জামানত হবে ৫ লাখ টাকা।

Update Time : ১০:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫


১৪ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি।
সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা -২০২৫ প্রকাশ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নীতিমালাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষর করার পর রাতেই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইডে প্রকাশিত হয় ( যার স্মারক নং ১২.০০০০০০.০৩১.৪০.০০১.২৫-৮২)।
নীতিমালা সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালাটি সময়োপযোগী ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে প্রণীত। নতুন নীতিমালার আওতায় বিসিআইসি ও বিএডিসি’র দুইটি নীতিমালা থাকবেনা। এক নীতিমালায় দুই প্রতিষ্ঠানের ডিলার থাকবে। সব ডিলার নিয়োজিত থাকবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আগামী ১৬ নভেম্বর নতুন নীতিমালাটি কার্যকর হবে।
নীতিমালাতে বলা হয়েছে একই পরিবারের একাধিক ডিলার থাকতে পারবেনা। প্রতিটি ইউনিয়নে ও পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিনজন করে ডিলার থাকবে। তবে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রয়োজন মনে করলে চাহিদা অনুযায়ী ডিলার বাড়ানো যাবে। বর্তমান বিদ্যমান ২০০৯ এর সারের নীতিমালায় বা তার আগে যারা সার ডিলার আছেন তাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হবেনা। অর্থাৎ পুরাতন ডিলারদের মধ্য কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অভিযোগ না থাকলে তাদের ডিলারশীপ বহাল থাকবে। কোন উপজেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বর্তমান নতুন নীতিমালায় ডিলার সংখ্যা কম থাকলে সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ হবে, আর বেশী থাকলে তাদেরকে সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয় করা হলে সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ হবেনা। ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এখন ৫ লাখ টাকা করা হয়। পুরাতন ডিলারগনের আগের ২ লাখ টাকা জামানত থাকলেও এখন আরও ৩ লাখ টাকা নতুন করে জামানত দিয়ে চুক্তি করতে হবে। নতুন নীতিমালায় খুচরা ডিলার থাকবেনা, তবে বর্তমানে যারা খুচরা ডিলার আছেন তারা আগামী ৩১ মার্চ -২৬ পর্যন্ত দায়-দেনা নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত খুচরা সার ডিলার সার বেচাকেনা করতে পারবেন। এরপর খুচরা ডিলার বাতিল হবে। নতুন ডিলারের আবেদন করলে আবেদনকারী এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। প্রত্যেক আবেদনকারী আবেদনপত্রের সাথে আবেদন ফি বাবত ২ হাজার টাকা ( অফেরতযোগ্য) ও আনেষ্টমানি বাবত ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার / ডিমান্ড ড্রাফট ( ফেরতযোগ্য) সংযোজন করতে হবে। আবেদনকারীগন নিজ নিজ জেলার জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এর নিকট আবেদন জমা দিতে হবে। প্রত্যেক ডিলার ২ বছর অন্তর ডিলারশীপ নবায়ন করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ও জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং প্রতি বিভাগে বিভাগীয় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থাকবে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সার ডিলার সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকবে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্র / গুদাম তিনটি করে থাকতে হবে। এই নীতিমালাতে সার বরাদ্দ, উত্তোলন, কৃষকদের নিকট বিতরণ পদ্ধতি, নিয়োগের নিয়মকানুন, অভিযোগ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ডিলারশীপ প্রত্যাহার, বাতিল, মৃত্যুজনিত কারনে ডিলারশীপ হস্তান্তর, সাময়িক ডিলারশীপ প্রদান, নীতিমালার পরিধি ও কার্যকরিতা, নীতিমালার উদ্যেশ্য, ডিলার সংখ্যা ও কার্যএলাকা, ডিলারশিপের আবেদনকারীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, নতুন ডিলার আবেদনে কি কি কাগজপত্র লাগবে তার ব্যাখা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, বিভিন্ন কমিটির পরিধি বা কার্যক্রম কি হবে সবকিছু উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সারের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে “সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয়ক ও পরামর্শক কমিটি”র একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় কৃষি মন্ত্রণালয়ে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেঃ জেঃ ( অবঃ) মোঃ জাহাংগীর আলম চৌধুরী। এসভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগন, বিসিআইসি ও বিএডিসি’র চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ)’র প্রশসাক ও সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি গণ উপস্থিত ছিলেন। সেদিনের সভায় সারের খসড়া নতুন নীতিমালাটি অনুমোদন হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চুরান্তভাবে প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে সারাদেশে বিসিআইসি’র ডিলার সংখ্যা ৫৬১৪ জন ও বিএডিসির ডিলার সংখ্যা ৫২০০ জন। তার মধ্য সারা দেশে তদন্ত অনুযায়ী রেড-১ নীতিমালা লংঘন ও অনিয়মের দায়ে দোষী ১৪৭ জন, রেড-২ নীতিমালা লংঘন করে নিয়োগের সংখ্যা ২১৬১ জন, রেড-৩ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দোষী -৯ জন, অনিয়মের কারনে একবার দোষী ৩৪৮ জন, নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়ার পর কোন প্রকার অনিয়মের অভিযুক্ত নয় এমন ডিলার সংখ্যা ৮১৪১ জন। সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভার রেজুলেশনে এই তথ্যটি পাওয়া যায়।
সারাদেশের বৃহৎ সার সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ) নতুন নীতিমালার বিরোধীতা করছেন। এই নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার বিসিআইসির সার ডিলারগন আন্দোলন, সমাবেশ, স্মারকলিপি দিয়েছেন। এইসব বিরোধীতার মধ্যই গতকাল নতুন নীতিমালাটি প্রকাশ হয়।
এবিষয়ে বিএফএ’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জনপদ সংবাদকে বলেন, আমরা নতুন নীতিমালার বিপক্ষে নয়। তবে নীতিমালাটি বোরো মৌসুমের পর আগামী মে-জুন মাসে কার্যকর করা ও নীতিমালার কিছু ধারা উপধারায় ভুলভ্রান্তি আছে। বিদ্যমান ২০০৯ এর নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারগন সুষ্ঠুভাবে সার কৃষকদের নিকট সরকারী মূল্য বিতরণ করছে। নতুন নীতিমালায় ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। গত ২০ বছরে পরিবহন ভাড়াসহ অনেককিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিলারগন লোকসান দিয়ে সার বিক্রি করে সেবা করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একজনের স্থলে আরও দুজন ডিলার নিয়োগ দেয়া হলেও সারের বরাদ্দ বাড়বেনা। বরাদ্দের সার তিনভাগে বন্টন হবে। আবার ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে, ৫ লাখ করা হয় যা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাই আমাদের সাথে আলোচনা করে মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ছিল।
বিএফএ’র সাবেক ভাইস- চেয়ারম্যান মোঃ শাহজালাল হোসেন বলেন, খুচরা ডিলার বাতিল করে প্রত্যেক ডিলারের তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র করলে ডিলারদের ব্যয় বাড়বে কিন্ত আয় কমে যাবে। খুচরা ডিলারগনের কাছে বর্তমান ডিলারগন সার বিক্রির কোটি কোটি টাকা পাওনা আছে । তাদের বাতিল করলে ডিলারদের বকেয়া টাকা আর পাবেনা। তিনি বলেন নতুন নীতিমালা কার্যকর করলে আগামী বোরো মৌসুমে সার নিয়ে দেশে বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা,সিটি কর্পোরেশনে একজন করে নতুন ডিলার দিতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে খুচরা ডিলার বাতিল করা সঠিক হবেনা বলে তিনি মত দেন।
বিএফএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান বকুল বলেন, সরকার চাহিদার সার ডিলারদেরকে সময়মত সরবরাহ দিতে পারেনা। নতুন নীতিমালায় কি উপকার হবে। তিনি বেসরকারীভাবে সার আমদানীর কোটা বাড়ানোর দাবি করেন।
এবিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোঃ খোরশেদ আলমের সাথে মোবাইলে কথা হলে, তিনি বলেন, দেশে সারের নতুন নীতিমালা করা সরকারী সিদ্ধান্ত। কৃষকদের দ্বারগোড়ায় সহজে সরকারী দামে দ্রুত সার সরবরাহ করা ও বিতরণ নিশ্চিত করাসহ দেশের মঙ্গলের জন্যই নতুন নীতিমালা করা হয়। ডিলারদের দাবির কমিশনের বিষয়টি সরকারের চিন্তাভাবনায় আছে। বিষয়টি অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগের নীতিমালাতে কিছু ক্রটি আছে, তাই নীতিমালাটি সংশোধন, সংযোজন করা হয় বলে তিনি জানান। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছুই পরিবর্তন, পরিমার্জন করতে হয়।