৬ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি সারাদেশে ২৩৭ আসনে ইতিমধ্যই প্রার্থী ঘোষনা করেছে। প্রার্থীতা ঘোষনায় কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শরীফুল আলম। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকার নেতাকর্মীরা উজ্জবিত আনন্দিত। যদিও এই আসনে তার সাথে কোন প্রতিদ্বন্দি ছিলনা। মনোনয়ন পাওয়ার পর ভৈরব- কুলিয়ারচর এলাকায় নেতাকর্মীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করে ভোট প্রার্থনা করছে নেতাকর্মীরা।
ইতিপূর্বে শরীফুল আলম ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৪ বার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে তিনবার নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও ভোট ডাকাতির কারনে বিজয়ী হতে পারেননি বিএনপির অভিযোগ। তার মধ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সাথে তিনি ২০০৮ সালে একবার এবং তার পুত্র বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সাথে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দুইবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিগত ২০০৯ ও ২০১৮ সালের দুটি নির্বাচনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি দলের নেতাদের দাবি। একারনে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন নিরাপদে। কারন এই আসনে তার দলের মধ্য কোন প্রতিদ্বন্দি নেই, দলে কোনরকম কোন্দলও নেই। শরীফুল আলম বিগত ২০ বছর যাবত এলাকার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। সংগঠনকে চাঙা রাখতে কাজ করছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নির্যাতিত ও জুলুমের শিকার ছিলেন। গত ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে ঢাকায়সহ এলাকায় মোট ৮৫ টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। এরপরও তিনি দল ও মানুষের জন্য সেবা করে গেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মামলায় জেলে গেলে তাদের তদারকিসহ তাদের পাশে ছিলেন। ফলে তিনি ভৈরব – কুলিয়ারচর এলাকায় জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন। এবারের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহন থাকবেনা বলে তিনিই এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী ভোটারগন মনে করছেন। নেতাকর্মীদের ধারনা আগামী নির্বাচনে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। শরীফুল আলমের বাড়ী কুলিয়ারচর এলাকায় হলেও তিনি এখন ভৈরবেই প্রচারণা বেশী বেশী করছেন।
তবে এই আসনে জামায়েত ইসলামী দলের প্রার্থী হতে পারেন মাওলানা কবির হোসাইন। ৫ আগস্টের পর ভৈরবের জামায়েতের একটি সভায় তার নাম ঘোষনা করে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল। যদিও জামায়েত ইসলামী দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীরদের নাম এখনও ঘোষনা করেননি। কিন্ত কবির হোসাইন নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন আশা নিয়ে এলাকায় প্রচারনা করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। যদি কবির হোসাইন চুরান্ত মনোনয়ন পান তবে শরীফুল আলমের প্রতিদ্বন্দি হবেন তিনি। অপরদিকে স্বতন্ত্র হিসেবে এখনও কারো নাম শোনা যায়নি।
এবিষয়ে জামায়েত ইসলামের প্রার্থী মৌলানা কবির হোসাইন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দল থেকে আমি মনোনয়ন পাব গ্রীন সিগনাল পেয়ে আমি এক বছর যাবত নির্বাচন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই বিজয়ী হব।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, শরীফুল আলম কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা বিএনপির সভাপতি। বিগত ১৫ বছর তিনি মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েও দল ও মানুষের সেবা করে গেছেন। আমাদের এলকায় দলে কোন কোন্দল নেই। আমরা একযোগে কাজ করছি। মানুষ তাকে ভালবাসে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। তিনি বলেন, বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির কারনে বিজয়ী হতে পারেননি। ভোট ডাকাতি না হলে তিনি আগেই নির্বাচিত হতেন। আমরা প্রচারনা শুরু করেছি। নির্বাচনে তার বিজয় হবে যা আমরা মনে করছি।
কুলিয়ারচর বিএনপির সভাপতি নুরুল মিল্লাদ বলেন, শরীফুল আলমের বাড়ী কুলিয়ারচর। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট ডাকাতির সময়ও শরীফুল আলম আমাদের এলাকা থেকে পাপনের চেয়ে ৫ হাজার ভোট বেশী পেয়েছিল। আর ভৈরবে ভোট ডাকাতি করে আ,লীগ প্রার্থী পাপন তার বাবা জিল্লুর রহমানের প্রভাবে বিজয়ী হয়েছিল। আগামী নির্বাচনে তার বিজয় অবশ্যই হবে, যা আমরা আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জ -৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৪ হাজার। তার মধ্য ভৈরব উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ও কুলিয়ারচর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার।
Reporter Name 









