মেঘনা নদীতে  বাল্কহেড থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার  বস্তা সার উদ্ধারের পর ৪ ডাকাত গ্রেফতার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬৬ Time View

২৪ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

মেঘনা নদীতে বাল্কহেড থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার ৩৪০ বস্তা (৩১৭ টন)  ডিএপি সার উদ্ধারের পর ৪ ডাকাতকে নৌ-পুলিশ গ্রেফতার করে। উদ্ধার হওয়া সারের সরকারী মূল্য ৬০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।  আজ শুক্রবার দুপুরে নরসিংদি সদর এলাকা থেকে শাকিল (২২) নামের এক ডাকাতকে এবং এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে নরসিংদি এলাকার  আলমগীর (৪৫), কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার   জসীম (২৮),  বাগেরহাটের  আঃ রহিম (৪৩) কে নৌ-পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ডাকাতদের হাত থেকে সার বোঝাই  বাল্কহেডটি আটকের পর উল্লেখিত সার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভৈরব বিএডিসি সার গুদামে আমদানীর পর মজুত রাখা হয়। সরকারী এই সার গত ৮ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে এমবি হাসান নামের একটি  বাল্কহেডে লোড করার পর সুনামগঞ্জের বিএডিসি সার গুদামে যাওয়ার কথা ছিল। 

জানা গেছে সার বোঝাই বাল্কহেডটি মুক্তারপুর থেকে ছেড়ে  গত ১০ অক্টোবর রাতে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার মানিকনগর ঘাটে  নোঙর করে।  পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে বাল্কহেডটি ঘাট ছেড়ে মেঘনা নদী দিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্যেশে রাওয়ানা দিলে ঘন্টাখানেক পর একটি ট্রলারে এসে একদল ডাকাত বাল্কহেডটির ওপরে উঠে। এসময় ডাকাতদল সার পরিবহনের ঠিকাদারের প্রতিনিধিকেসহ চালকের হাতমুখ বেঁধে ফেলে। পরে ডাকাতরা নিজেরা চালিয়ে বাল্কহেডটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ডাকতরা বাল্কহেডটি নরসিংদির আবদুল্লাহর চর নামক স্থানে নিয়ে থামিয়ে বাল্কহেডের চালক, হেলপারসহ ঠিকাদার প্রতিনিধিকে মারধোর করে,  জোরপূর্বক পাড়ে নামিয়ে বাল্কহেডটি নিয়ে অজানা উদ্যেশে চলে যায়। পরে বাল্কহেডে থাকা প্রতিনিধি তার মোবাইল থেকে পুলিশের  ৯৯৯ নাম্বারে কল করে বিষয়টি অবগত করে। 

এরপর ৯৯৯ নাম্বার থেকে খবর পেয়ে  নরসিংদির মির্জাচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা নদীতে অভিযান চালিয়ে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার তিতাস নদীর এক তীরবর্তী এলাকা থেকে গত ১২ অক্টোবর  সার বোঝাই বাল্কহেডটি আটক করলেও ডাকাতরা পালিয়ে যায়। 

এবিষয়ে নরসিংদির মির্জাপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রউফ   জানান, ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বাল্কহেডটি সারসহ আটকের পর কর্তৃপক্ষকে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। আজ শুক্রবার  (২৪ অক্টোবর)  শাকিল নামের একজনসহ আগে আরও তিনজন মোট ৪ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছি। আগে গ্রেফতার হওয়া তিন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। 

ভৈরব বিএডিসি সার গুদামের উপ-  সহকারী পরিচালক ( বর্তমানে গুদাম রক্ষকের দায়িত্বে) মোঃ আতাউর রহমান বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাল্কহেডের ৩১৭ টন ( ৬৩৪০ বস্তা) ডিএপি সার আমরা গুদামে আমদানী করে মজুত করেছি। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এবিষয়ে নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ – আল মামুন জানান, নৌ- পুলিশের তৎপরতা ও অভিযানে বাল্কহেডটি সারসহ উদ্ধার হয়। আজ পর্যন্ত ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরও অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মেঘনা নদীতে  বাল্কহেড থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার  বস্তা সার উদ্ধারের পর ৪ ডাকাত গ্রেফতার।

Update Time : ০১:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

২৪ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

মেঘনা নদীতে বাল্কহেড থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার ৩৪০ বস্তা (৩১৭ টন)  ডিএপি সার উদ্ধারের পর ৪ ডাকাতকে নৌ-পুলিশ গ্রেফতার করে। উদ্ধার হওয়া সারের সরকারী মূল্য ৬০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।  আজ শুক্রবার দুপুরে নরসিংদি সদর এলাকা থেকে শাকিল (২২) নামের এক ডাকাতকে এবং এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে নরসিংদি এলাকার  আলমগীর (৪৫), কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার   জসীম (২৮),  বাগেরহাটের  আঃ রহিম (৪৩) কে নৌ-পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ডাকাতদের হাত থেকে সার বোঝাই  বাল্কহেডটি আটকের পর উল্লেখিত সার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভৈরব বিএডিসি সার গুদামে আমদানীর পর মজুত রাখা হয়। সরকারী এই সার গত ৮ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে এমবি হাসান নামের একটি  বাল্কহেডে লোড করার পর সুনামগঞ্জের বিএডিসি সার গুদামে যাওয়ার কথা ছিল। 

জানা গেছে সার বোঝাই বাল্কহেডটি মুক্তারপুর থেকে ছেড়ে  গত ১০ অক্টোবর রাতে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার মানিকনগর ঘাটে  নোঙর করে।  পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে বাল্কহেডটি ঘাট ছেড়ে মেঘনা নদী দিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্যেশে রাওয়ানা দিলে ঘন্টাখানেক পর একটি ট্রলারে এসে একদল ডাকাত বাল্কহেডটির ওপরে উঠে। এসময় ডাকাতদল সার পরিবহনের ঠিকাদারের প্রতিনিধিকেসহ চালকের হাতমুখ বেঁধে ফেলে। পরে ডাকাতরা নিজেরা চালিয়ে বাল্কহেডটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ডাকতরা বাল্কহেডটি নরসিংদির আবদুল্লাহর চর নামক স্থানে নিয়ে থামিয়ে বাল্কহেডের চালক, হেলপারসহ ঠিকাদার প্রতিনিধিকে মারধোর করে,  জোরপূর্বক পাড়ে নামিয়ে বাল্কহেডটি নিয়ে অজানা উদ্যেশে চলে যায়। পরে বাল্কহেডে থাকা প্রতিনিধি তার মোবাইল থেকে পুলিশের  ৯৯৯ নাম্বারে কল করে বিষয়টি অবগত করে। 

এরপর ৯৯৯ নাম্বার থেকে খবর পেয়ে  নরসিংদির মির্জাচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা নদীতে অভিযান চালিয়ে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার তিতাস নদীর এক তীরবর্তী এলাকা থেকে গত ১২ অক্টোবর  সার বোঝাই বাল্কহেডটি আটক করলেও ডাকাতরা পালিয়ে যায়। 

এবিষয়ে নরসিংদির মির্জাপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রউফ   জানান, ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বাল্কহেডটি সারসহ আটকের পর কর্তৃপক্ষকে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। আজ শুক্রবার  (২৪ অক্টোবর)  শাকিল নামের একজনসহ আগে আরও তিনজন মোট ৪ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছি। আগে গ্রেফতার হওয়া তিন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। 

ভৈরব বিএডিসি সার গুদামের উপ-  সহকারী পরিচালক ( বর্তমানে গুদাম রক্ষকের দায়িত্বে) মোঃ আতাউর রহমান বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাল্কহেডের ৩১৭ টন ( ৬৩৪০ বস্তা) ডিএপি সার আমরা গুদামে আমদানী করে মজুত করেছি। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এবিষয়ে নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ – আল মামুন জানান, নৌ- পুলিশের তৎপরতা ও অভিযানে বাল্কহেডটি সারসহ উদ্ধার হয়। আজ পর্যন্ত ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরও অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হবে।