ভৈরবে মাদকাসক্ত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা।। বিচার দাবি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৮৯ Time View

৯ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভৈরবে মাদকাসক্ত যুবক মেহেদী হাসানের (২০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয় ( মামলা নং ১০)। গতকাল রোববার রাতে তার বড় ভাই সামির মিয়া বাদী হয়ে  অজ্ঞাতনামা আসামী করে  এই মামলাটি দায়ের করেন। নিহত মেহেদী হাসান শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার দানিছ বেপারীর বাড়ীর বাসিন্দা বাহাদুর মিয়ার ছেলে। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, মেহেদী হাসান মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারকে জ্বালা- যন্ত্রনা, অত্যাচার করত। তার অত্যাচার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার সকালে  মা রানু বেগম স্থানীয় যুবসমাজের কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দেন তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে  দিতে। পরে যুবকরা তাকে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে নিয়ে গেলে সে ক্ষমা চেয়ে অঙ্গীকার করে  বলেন ভবিষ্যতে  পরিবারকে আর জ্বালা যন্ত্রনা অত্যাচার করবেনা। তারপর যুবকদের ভাষ্য অনুযায়ী  তাকে ছেড়ে দিয়ে যুবকরা চলে যায়। এরপর এদিনই ( শুক্রবার) বিকেলে শহরের নিউটাউন এলাকার রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। এসময় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরে  মেহেদীর লাশের ময়না তদন্ত হয় পরদিন শনিবার। ঘটনার দিন লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট করার পর  পুলিশ জানিয়েছে লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিন্হ ছিল। ময়না তদন্তের পর  শনিবার বিকেলে তার নামাজে জানাজা শেষে  স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার এই রহস্যজনক  মৃত্যু নিয়ে ধোয়াশাঁর সৃষ্টি হয় পরিবারের মধ্য।

মা রানু বেগম বলেন, আমার ছেলে নেশাগ্রস্থ ছিল বলে তাকে কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দিয়েছিলাম আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে তুলে দিতে। ভেবেছিলাম তাকে শাসন বা ভয় দেখালে ভাল হয়ে যাবে। কিন্ত তার মৃত্যুর লাশ পাব এটা কখনও কামনা করেনি। কিভাবে, কেমন করে, কার আঘাতে সে মারা গেল তা আমাদের জানা প্রয়োজন। 

মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই সামির মিয়া বলেন, আমার ভাই কার আঘাতে, কিভাবে মৃত্যু হলো জানতে হবে। আমার মা তাকে শুক্রবার সকালে  যুবকদের হাতে জীবিত তুলে দিয়েছিল, পরে বিকেলে লাশ পেলাম আমরা। এই হত্যার বিচার পেতে আমি অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে রোববার রাতে  থানায় মামলা করেছি। পুলিশ এখন তদন্ত করে অপরাধীদেরকে চিন্হিত করে বিচারের আওতায় আনতেই আমি  মামলা করেছি। ভৈরব থানার পুলিশ মামলার বিষয়টি স্বীকার করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে মাদকাসক্ত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা।। বিচার দাবি।

Update Time : ১২:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

৯ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভৈরবে মাদকাসক্ত যুবক মেহেদী হাসানের (২০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয় ( মামলা নং ১০)। গতকাল রোববার রাতে তার বড় ভাই সামির মিয়া বাদী হয়ে  অজ্ঞাতনামা আসামী করে  এই মামলাটি দায়ের করেন। নিহত মেহেদী হাসান শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার দানিছ বেপারীর বাড়ীর বাসিন্দা বাহাদুর মিয়ার ছেলে। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, মেহেদী হাসান মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারকে জ্বালা- যন্ত্রনা, অত্যাচার করত। তার অত্যাচার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার সকালে  মা রানু বেগম স্থানীয় যুবসমাজের কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দেন তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে  দিতে। পরে যুবকরা তাকে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে নিয়ে গেলে সে ক্ষমা চেয়ে অঙ্গীকার করে  বলেন ভবিষ্যতে  পরিবারকে আর জ্বালা যন্ত্রনা অত্যাচার করবেনা। তারপর যুবকদের ভাষ্য অনুযায়ী  তাকে ছেড়ে দিয়ে যুবকরা চলে যায়। এরপর এদিনই ( শুক্রবার) বিকেলে শহরের নিউটাউন এলাকার রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। এসময় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরে  মেহেদীর লাশের ময়না তদন্ত হয় পরদিন শনিবার। ঘটনার দিন লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট করার পর  পুলিশ জানিয়েছে লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিন্হ ছিল। ময়না তদন্তের পর  শনিবার বিকেলে তার নামাজে জানাজা শেষে  স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার এই রহস্যজনক  মৃত্যু নিয়ে ধোয়াশাঁর সৃষ্টি হয় পরিবারের মধ্য।

মা রানু বেগম বলেন, আমার ছেলে নেশাগ্রস্থ ছিল বলে তাকে কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দিয়েছিলাম আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে তুলে দিতে। ভেবেছিলাম তাকে শাসন বা ভয় দেখালে ভাল হয়ে যাবে। কিন্ত তার মৃত্যুর লাশ পাব এটা কখনও কামনা করেনি। কিভাবে, কেমন করে, কার আঘাতে সে মারা গেল তা আমাদের জানা প্রয়োজন। 

মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই সামির মিয়া বলেন, আমার ভাই কার আঘাতে, কিভাবে মৃত্যু হলো জানতে হবে। আমার মা তাকে শুক্রবার সকালে  যুবকদের হাতে জীবিত তুলে দিয়েছিল, পরে বিকেলে লাশ পেলাম আমরা। এই হত্যার বিচার পেতে আমি অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে রোববার রাতে  থানায় মামলা করেছি। পুলিশ এখন তদন্ত করে অপরাধীদেরকে চিন্হিত করে বিচারের আওতায় আনতেই আমি  মামলা করেছি। ভৈরব থানার পুলিশ মামলার বিষয়টি স্বীকার করেন।