২৪ জুলাই, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে নাজমুল মিয়া নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসনের নামে বেধরক মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সুল আলমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
গত ২১ জুলাই শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর নানা আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও মেনে নিতে পারেনি নাজমুলের দূর সম্পর্কের মামা স্বাধীন মিয়া। উক্ত ঘটনার জের ধরে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে নাজমুলের মামা স্বাধীন মিয়াসহ কয়েকজন মিলে শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এঘটনায় শিক্ষার্থী নাজমুলের মামা স্বাধীন মিয়া ও নানা আমিনুল ইসলামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে থানায় এজাহার দিয়েছেন শিক্ষক ফয়সুল আলম ও অপর দিকে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল। গত ২১ জুলাই ইংরেজি ক্লাশ চলাকালীন সময়ে নাজমুল উৎশৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে মারধোর করে স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সুল আলম। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী নাজমুলের নানা আমিনুল ইসলামকে স্কুলে ডেকে এনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সামনে বিষয়টি মীমাংসা করেন প্রধান শিক্ষক। এরপর ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে শিক্ষক ফয়সুল আলম বিদ্যালয় থেকে তার নিজ বাসায় শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় যাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীর মামাসহ কয়েকজন মিলে ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে।
স্কুলের শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, আমার চুল বড় হওয়ায় স্যার আমাকে শাসনের নামে বেধরক মারধর করেছেন। চড় থাপ্পড় ও স্টিলের স্কেল দিয়ে বেধরক মারধর করে আমাকে আহত করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করার ফলে আমি এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি। আমিসহ স্যার আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর সাথেই এমন আচরণ করে থাকে।
শিক্ষার্থীর নানা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার নাতিকে বেধরক মারধর করায় গায়ে ক্ষতচিহ্ন দেখে ওর মামা অনেক কষ্ট পেয়েছে। এভাবে মারধোর না করে অভিভাবকদের জানাতেও পারতো। ভাগিনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনাটি চরম বেয়াদবি করেছে নাজমুলের মামা। এটা ও মোটেই ঠিক করেনি। আমিও এ ঘটনার বিচার হোক এটা আমিও চাই। কিন্তু আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এই ব্যাপারে শিক্ষক ফয়সুল আলমের সাথে থানা চত্বরে কথা বলতে চাইলে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে চলে যাবার সময় বলেন আপনাদের প্রয়োজন হলে আগামী কাল আমার অফিসে আসেন।
এবিষয়ে ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক লিমন বোস জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছে থেকেও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি৷ তাদেরকেও লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি আমিও জানতে পেরেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









