ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে ফের দুইপক্ষের  সংঘর্ষে ২০ জন আহত। পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। বাড়ীঘর ভাঙচুর লুটপাট। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৩ Time View

৩০ আগস্ট, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে ফের দুইপক্ষের মধ্য সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এসময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনায় আকবরনগর বাজারসহ মিরারচর গ্রামে কমপক্ষে ১৫ টি দোকান ও ঘরবাড়ী ভাঙচুর লুটপাট করা হয়। ঘটনাটি ঘটে আজ রোববার বিকেল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত। খবর পেয় পুলিশ Rab সদস্যরা  ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। আজকের ঘটনায় যারা আহত হয় তারা হলো নজরুল (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন (২৮), জাবেদা বেগম (৬০), আক্কেল আলী (৪১), মধু মিয়া (৪৫), হেকিম মিয়া (১৬)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত একমাস আগে ২৮ জুলাই ভৈরবের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসী বাজারের নামকরণ নিয়ে ঝগড়া সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এদিন মিরারচর গ্রামের দুইজন নিহত হয়। তারা হলো মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া। এঘটনার পর ৩০ জুলাই প্রতিপক্ষরা দুইশ বাড়ীঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করে। তারপর দুটি মামলায় ৯০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। অপরপক্ষ বাড়ীঘর দোকানপাট ভাঙচুরের একটি মামলা করে। এঘটনার পর আজ রোববার সকালে  আকবরনগর গ্রামের ৪১ জন আসামী কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এখবর ভৈরবে পৌঁছলে আজ বিকেলে মিরারচর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে  আকবরনগর বাজারে হামলা চালায়। এসময় আকবরনগর গ্রামের লোকজনও পাল্টা হামলা করে। এতে ২০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৮ রাউন্ড  টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। পরে বিকেল ৬ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, আকবরনগর বাজারের নামকে কেন্দ্র করে মিরারচর গ্রামবাসী অযথা দ্বন্দ করছে। আমার কথা তারা শুনেনা বলে আমি সেখানে আর যায়না। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুটি গ্রামের দ্বন্দে একমাস আগে দুটি খুন হয়। এক পক্ষ আজ রোববার আদালতে জামিন না পেলে অপরপক্ষ সুযোগ বুঝে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। 

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, দুটি গ্রামের মানুষ উছৃংখল। কেউ কারো কথা মানেনা, শুনেনা । স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহযোগীতা করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত।

ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে ফের দুইপক্ষের  সংঘর্ষে ২০ জন আহত। পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। বাড়ীঘর ভাঙচুর লুটপাট। 

Update Time : ০২:১৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

৩০ আগস্ট, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে ফের দুইপক্ষের মধ্য সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এসময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনায় আকবরনগর বাজারসহ মিরারচর গ্রামে কমপক্ষে ১৫ টি দোকান ও ঘরবাড়ী ভাঙচুর লুটপাট করা হয়। ঘটনাটি ঘটে আজ রোববার বিকেল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত। খবর পেয় পুলিশ Rab সদস্যরা  ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। আজকের ঘটনায় যারা আহত হয় তারা হলো নজরুল (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন (২৮), জাবেদা বেগম (৬০), আক্কেল আলী (৪১), মধু মিয়া (৪৫), হেকিম মিয়া (১৬)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত একমাস আগে ২৮ জুলাই ভৈরবের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসী বাজারের নামকরণ নিয়ে ঝগড়া সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এদিন মিরারচর গ্রামের দুইজন নিহত হয়। তারা হলো মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া। এঘটনার পর ৩০ জুলাই প্রতিপক্ষরা দুইশ বাড়ীঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করে। তারপর দুটি মামলায় ৯০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। অপরপক্ষ বাড়ীঘর দোকানপাট ভাঙচুরের একটি মামলা করে। এঘটনার পর আজ রোববার সকালে  আকবরনগর গ্রামের ৪১ জন আসামী কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এখবর ভৈরবে পৌঁছলে আজ বিকেলে মিরারচর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে  আকবরনগর বাজারে হামলা চালায়। এসময় আকবরনগর গ্রামের লোকজনও পাল্টা হামলা করে। এতে ২০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৮ রাউন্ড  টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। পরে বিকেল ৬ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, আকবরনগর বাজারের নামকে কেন্দ্র করে মিরারচর গ্রামবাসী অযথা দ্বন্দ করছে। আমার কথা তারা শুনেনা বলে আমি সেখানে আর যায়না। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুটি গ্রামের দ্বন্দে একমাস আগে দুটি খুন হয়। এক পক্ষ আজ রোববার আদালতে জামিন না পেলে অপরপক্ষ সুযোগ বুঝে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। 

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, দুটি গ্রামের মানুষ উছৃংখল। কেউ কারো কথা মানেনা, শুনেনা । স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহযোগীতা করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।