রাশিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ভৈরবের জাকিরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০৭ Time View

২৯ আগস্ট, নিজস্ব   প্রতিনিধি

রাশিয়ার আমুরে এলাকায়  মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত  জাকির হোসেন (৩৫) এর বাড়িতে চলছে পরিবারের  শোকের মাতম।  কোন ভাবেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি আর্তনাথ । আজ ২৯  আগস্ট শনিবার বিকেলে  নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে গেছে আকাশ  বাতাস। পরিবারের বড় ছেলেকে  অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস রাশিয়ায়। ছেলের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণতো হয়নি বরং ছেলে পাঠানো ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে সেই চিন্তায় পড়েছে।  নিহত জাকির  ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকা পাড়া গ্রামের বড় বাড়ির মৃত  রতন মিয়ার ছেলে। গত ২৬ আগস্ট  দূর্ঘটনায় রাশিয়ায় ১৫ জন মারা যায়। তার মধ্য ভৈরবের জাকির ছিল। ২৭ আগস্ট তার পরিবার মৃত্যুর খবর পায়। 

নিহতের ভাই শরীফ মিয়া বলেন, পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দেড় বছর আগে তার বাবা ধারদেনা করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠায়। জাকিরের সাথে রাশিয়ায় সফরসঙ্গী ছিলেন তারই চাচাতো ভাই আলী হোসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন জাকির । শুরুতে অবস্থা ভাল না থাকলেও দুই মাস আগে ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে প্রমোশন হয়েছে তার । এখবর সে  পরিবারকে জানিয়েছিল। জাকির গত ২৬ আগস্ট তার কোম্পানীতে মেশিন বিস্ফোরনে  দূর্ঘটনায় মারা গেলেও গতকাল ২৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে এখবর পায় তারা। 

তিনি  আরো বলেন, ৯ মাস আগে বাবা রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জাকিরের আরো তিন ভাই রয়েছে। একজন গ্রিসে গেছেন কয়েকমাস আগে। মাথায় ঋণের চাপ অনেক। ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারেনি জাকির হোসেন। ২৬ আগস্ট  জাকির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল । ২৭ আগস্ট তার বন্ধু  আলী হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারে দুর্ঘটনার খবর।  শরীফ নিজের বড় ভাইয়ের লাশ  দেশে  ফিরে পেতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। 

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, আমার সাথে ঘটনার দিন সকাল সাতটায় ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেন। তখন সে বলে আমাদের সুদিন ফিরবে সবাই যেন দোয়া করি। 

তিনি আরো বলেন, আমি ভাবতে  পারিনি তিনি মারা যাবেন।  আমার চার বছরের তায়েবা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে আমি মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো। কীভাবে মানুষ করবো। আমি স্বামীর লাশ দেশে এনে দেখতে চাই। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত।

রাশিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ভৈরবের জাকিরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

Update Time : ০৩:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

২৯ আগস্ট, নিজস্ব   প্রতিনিধি

রাশিয়ার আমুরে এলাকায়  মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত  জাকির হোসেন (৩৫) এর বাড়িতে চলছে পরিবারের  শোকের মাতম।  কোন ভাবেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি আর্তনাথ । আজ ২৯  আগস্ট শনিবার বিকেলে  নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে গেছে আকাশ  বাতাস। পরিবারের বড় ছেলেকে  অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস রাশিয়ায়। ছেলের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণতো হয়নি বরং ছেলে পাঠানো ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে সেই চিন্তায় পড়েছে।  নিহত জাকির  ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকা পাড়া গ্রামের বড় বাড়ির মৃত  রতন মিয়ার ছেলে। গত ২৬ আগস্ট  দূর্ঘটনায় রাশিয়ায় ১৫ জন মারা যায়। তার মধ্য ভৈরবের জাকির ছিল। ২৭ আগস্ট তার পরিবার মৃত্যুর খবর পায়। 

নিহতের ভাই শরীফ মিয়া বলেন, পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দেড় বছর আগে তার বাবা ধারদেনা করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠায়। জাকিরের সাথে রাশিয়ায় সফরসঙ্গী ছিলেন তারই চাচাতো ভাই আলী হোসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন জাকির । শুরুতে অবস্থা ভাল না থাকলেও দুই মাস আগে ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে প্রমোশন হয়েছে তার । এখবর সে  পরিবারকে জানিয়েছিল। জাকির গত ২৬ আগস্ট তার কোম্পানীতে মেশিন বিস্ফোরনে  দূর্ঘটনায় মারা গেলেও গতকাল ২৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে এখবর পায় তারা। 

তিনি  আরো বলেন, ৯ মাস আগে বাবা রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জাকিরের আরো তিন ভাই রয়েছে। একজন গ্রিসে গেছেন কয়েকমাস আগে। মাথায় ঋণের চাপ অনেক। ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারেনি জাকির হোসেন। ২৬ আগস্ট  জাকির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল । ২৭ আগস্ট তার বন্ধু  আলী হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারে দুর্ঘটনার খবর।  শরীফ নিজের বড় ভাইয়ের লাশ  দেশে  ফিরে পেতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। 

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, আমার সাথে ঘটনার দিন সকাল সাতটায় ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেন। তখন সে বলে আমাদের সুদিন ফিরবে সবাই যেন দোয়া করি। 

তিনি আরো বলেন, আমি ভাবতে  পারিনি তিনি মারা যাবেন।  আমার চার বছরের তায়েবা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে আমি মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো। কীভাবে মানুষ করবো। আমি স্বামীর লাশ দেশে এনে দেখতে চাই।