২১ জুন, নিজস্ব প্রতিনিধি
দেড় বছর যাবত আশুগঞ্জ সার কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকায় ক্ষতি প্রায় ১৩২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ১ মার্চ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এরপর কারখানার কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কারখানাটি চালু করতে গ্যাস সরবরাহ করছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারখানাটিতে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ করা হবে তার কোন নির্ধারিত তারিখও দেয়া হচ্ছেনা। ফলে কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রতিদিন ১০০০/১১০০ মেঃ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হত। এই সারের মূল্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এহিসাবে গত দেড় বছরে কারখানায় সার উৎপাদন হত ১৩২ কোটি টাকার। কারখানাটি চালু না থাকায় দেড় বছরে ১৩২ কোটি টাকা উৎপাদন লোকসান হয়েছে। কথা ছিল চলতি জুন মাসের ১ তারিখে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে কিন্ত তা হয়নি। বর্তমানে কারখানা থেকে ৪ টি জেলা কিশোরগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের একটি উপজেলার ডিলারগনকে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহকৃত সার বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ও দেশের অন্য কারখানা থেকে আমদানী করে ডিলারদের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
এবিষয়ে কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রহমান জানান, গত বছর ১ মার্চ কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানার মূল্যমান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং অপরদিকে প্রতিদিন ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উৎপাদন লোকসান হচ্ছে। আমরা আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারছিনা। তিনি বলেন কারখানাটি দেড় বছর যাবত বন্ধ থাকায় ১৩২ কোটি টাকা উৎপাদন লোকসান হয়েছে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মোঃ খালেকুজ্জামান বলেন, আশুগঞ্জ কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সার কৃষকের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্ত কারখানাটি বন্ধ থাকায় আমরা দেড় বছর যাবত বিদেশী সার সরবরাহ পাচ্ছি।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইন্জিনিয়ার আলী আশরাফ যুগান্তরকে মোবাইলে জানান, গত দেড় বছর যাবত গ্যাসের অভাবে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে ৪ জেলার ডিলারদেরকে আমদানীকৃত সার সরবরাহ দিয়ে কৃষকের চাহিদা পূরণ করছি। কবে নাগাদ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা তিনি জানেননা বলে জানান। কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ যখন করবে তখন কারখানাটি চালু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
Reporter Name 









