কিশোরগঞ্জের হাওরে ১০হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেনা কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাথায় হাত। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৭৫ Time View

৪ মে, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরে ১০ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা হারবেস্টল মেশিনে ধান কাটলেও এখন পানিতে নিমজ্জিত ধান শ্রমিক সংকটে কাটতে পারছেনা। কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর অফিস জানায় জেলার হাওরে এখন পর্যন্ত বোরো ধান কাটা হয়েছে ৬৩% এবং পানিতে নিমজ্জিতসহ ৭০%। কাটা বাকী আছে ৩০%। আজ সোমবারও বৃষ্টিপাত হয়েছে। একারনে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেনা। হাওরের একটি মাত্র ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। 

জানা গেছে কিশোরগঞ্জ জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ হয়েছে। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরের অষ্টগ্রাম, মিটামইন, ইটনা, নিকলি, ভৈরবসহ বিভিন্ন উপজেলায় রোববার পর্যন্ত ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতথ্য নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ। বৈশাখের শুরুতে কৃষকরা তাদের পাকা ধান হারবেস্টল মেশিন দিয়ে কাটা শুরু করে। মোট আবাদের ৫২% ধান ভালভাবে কাটতে পারলেও ১১% ফসল বৃষ্টির মধ্য কাটে। ৭% ফসল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়। এখনও নিমজ্জিত আছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। বর্তমানে জমিতে পানি থাকায় হারবাস্টাল দিয়ে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেনা। হাতে কাটতে হলে শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্ত ধান কাটার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক হাওরে না থাকায় কৃষকরা তাদের ধান কাটতে পারছেনা। এখনও ৩০% জমির ধান কাটা বাকী আছে। আবার প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কৃষকরা নিজদের ঘরের লোকজন দিয়ে ধান কাটতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

অষ্টগ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারনে আমার ১০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ৫ বিঘা কেটেও শুকাতে পারেনি, ফলে গেরা হয়ে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি খামু সারা বছর, সংসারের খরচ চলবে কি করে ভেবে পাচ্ছিনা। 

মিটামইনের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, শ্রমিক সংকটের কারনে আমি ধান কাটতে পারছিনা। জমিতে পানি উঠেছে, তাই হারবেস্টাল দিয়েও ধান কাটা সম্ভব নয়। 

ভৈরবের কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। 

ইটনার কৃষক মধূ মিয়া বলেন, বৃষ্টি আমাদের ফসল কেড়ে নিল। এখন সারা বছরের খাবার ধান ঘরে তুলতে পারবনা। আমার ৪ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ বিঘার ফসল কোনরকমে কেটেছিলাম। কিভাবে সারা বছর সংসার চলবে চিন্তা করছি। 

কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক ডঃ সাদিকুর রহমান এবিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। তার মধ্য ৬৩% ফসল কাটা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। এখনও ৩০% ফসল কাটার বাকি। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকরা বিপাকে আছে। এক সপ্তাহ রোদ হলে হাওরের বাকী  ফসল কাটা শেষ হয়ে যাবে। এখন আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে বাকী ধান কাটার বিষয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত।

কিশোরগঞ্জের হাওরে ১০হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেনা কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাথায় হাত। 

Update Time : ১০:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

৪ মে, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরে ১০ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা হারবেস্টল মেশিনে ধান কাটলেও এখন পানিতে নিমজ্জিত ধান শ্রমিক সংকটে কাটতে পারছেনা। কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর অফিস জানায় জেলার হাওরে এখন পর্যন্ত বোরো ধান কাটা হয়েছে ৬৩% এবং পানিতে নিমজ্জিতসহ ৭০%। কাটা বাকী আছে ৩০%। আজ সোমবারও বৃষ্টিপাত হয়েছে। একারনে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেনা। হাওরের একটি মাত্র ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। 

জানা গেছে কিশোরগঞ্জ জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ হয়েছে। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরের অষ্টগ্রাম, মিটামইন, ইটনা, নিকলি, ভৈরবসহ বিভিন্ন উপজেলায় রোববার পর্যন্ত ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতথ্য নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ। বৈশাখের শুরুতে কৃষকরা তাদের পাকা ধান হারবেস্টল মেশিন দিয়ে কাটা শুরু করে। মোট আবাদের ৫২% ধান ভালভাবে কাটতে পারলেও ১১% ফসল বৃষ্টির মধ্য কাটে। ৭% ফসল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়। এখনও নিমজ্জিত আছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। বর্তমানে জমিতে পানি থাকায় হারবাস্টাল দিয়ে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেনা। হাতে কাটতে হলে শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্ত ধান কাটার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক হাওরে না থাকায় কৃষকরা তাদের ধান কাটতে পারছেনা। এখনও ৩০% জমির ধান কাটা বাকী আছে। আবার প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কৃষকরা নিজদের ঘরের লোকজন দিয়ে ধান কাটতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

অষ্টগ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারনে আমার ১০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ৫ বিঘা কেটেও শুকাতে পারেনি, ফলে গেরা হয়ে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি খামু সারা বছর, সংসারের খরচ চলবে কি করে ভেবে পাচ্ছিনা। 

মিটামইনের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, শ্রমিক সংকটের কারনে আমি ধান কাটতে পারছিনা। জমিতে পানি উঠেছে, তাই হারবেস্টাল দিয়েও ধান কাটা সম্ভব নয়। 

ভৈরবের কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। 

ইটনার কৃষক মধূ মিয়া বলেন, বৃষ্টি আমাদের ফসল কেড়ে নিল। এখন সারা বছরের খাবার ধান ঘরে তুলতে পারবনা। আমার ৪ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ বিঘার ফসল কোনরকমে কেটেছিলাম। কিভাবে সারা বছর সংসার চলবে চিন্তা করছি। 

কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক ডঃ সাদিকুর রহমান এবিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। তার মধ্য ৬৩% ফসল কাটা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। এখনও ৩০% ফসল কাটার বাকি। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকরা বিপাকে আছে। এক সপ্তাহ রোদ হলে হাওরের বাকী  ফসল কাটা শেষ হয়ে যাবে। এখন আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে বাকী ধান কাটার বিষয়।