শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হয়ে মূল্যায়িত হলেন।  এলাকায়  চলছে খুশীর বন্যা।। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ Time View

১৯ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মোঃ শরীফুল আলম এবারের নির্বাচনে  বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে  বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এবার প্রতিমন্ত্রী করে মূল্যায়ন করলেন। তাকে  বানিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মোঃ শরীফুল আলম ৩০ বছর যাবত বিএনপি’র রাজনীতি করছেন। তার রাজনীতির জীবনে একাধিকবার কারাবরণ, পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতন, বিগত সরকারের অত্যাচার, মামলা – হামলার শিকার হয়েছেন। বিগত ১৫ বছরে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মোট ৮৫ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী, নির্যাতন করেছে। এখনও তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানাসহ কিশোরগঞ্জ জেলায় ৭৩ টি মিথ্যা  মামলা চলমান আছে বলে তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সবগুলি মামলা রাজনৈতিক কারনে দেয়া হয়েছে। গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলে তৎকালীন সরকার তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিতে থাকে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ আদালতে একাধিক মামলায় রিমান্ডে এনে নির্যাতন করে। পুলিশের গাড়ীতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে ঢাকা – কিশোরগঞ্জ আদালতে বার বার হাজির করা হয়। তার বাড়ীঘর ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকবার। ভৈরব – কুলিয়ারচর বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয় একাধিকবার। 

শরীফুল আলম কয়েক বছর যাবত কিশোেরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন তিনি। ফলে ময়মনসিংহের সকল জেলাসহ কিশোরগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে সাংগঠনিক দিকগুলি তিনি দেখভাল করে গেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬ টি আসনের মধ্য ৫ টি আসন বিএনপি পেয়েছে। এই বিজয়ের ফলাফল তারই অবাদান। ভৈরব – কুলিয়ারচরসহ জেলার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে যত রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা হয়েছে এসব মামলার তদারকি তিনি করেছেন। মামলায় নেতাকর্মী যারা আসামী হয়েছে তাদের জামিন, হাজিরা সবই তিনি সহযোগীতা করেছেন। এমনকি দরিদ্র কর্মীদের বাসায় খাবার দাবার চাল পৌঁছে দিয়েছেন। কারাগারে থাকা কর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন তিনি। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে স্বাধীনতার পর জিল্লুর রহমান ৬ বার ও তার ছেলে নাজমুল হাসান পাপন ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শরীফুল আলম দুজনের সাথে ৫ বার মনোনয়ন পেলেও বিজয়ী হতে পারেননি। এবার ফ্যাসিস্ট সরকারের দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায়  ৬ ষ্ঠ বারের মত প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে তার অভিযোগ বার বার তাকে ভোট ডাকাতি করে পরাজিত করা হয়েছে। এবার সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি জনগনের ভোটে বিজয়ী হন। 

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের নেতাকে জনগন ভালবাসে। তিনি গণমানুষের জন্য সবসময় কাজ করেন। নেতাকর্মীরা তাকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে। বিগত দিনে তিনি নির্বাচন করলেও তাকে ভোট ডাকাতি করে পরাজিত করা হয়েছে। এবার বিজয়ের পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তিনি মন্ত্রী হতে পারেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান বলেন, শরীফুল আলম একজন সাদা মনের মানুষ। হিংসা, নিন্দা তার নেই। প্রতিহিংসা রাজনীতি তিনি কখনই করেননা। জেলার ১৩ টি উপজেলায় তার সুনাম রয়েছে। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন তিনি। তাকে এবার প্রতিমন্ত্রী করায় দলের চেয়ারম্যান  তারেক রহমানকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

এবিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, আমাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করায় আমি আমার নেতা তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। বিগত সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ৮৫ টি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে যার ৭৩ টি মামলা এখনও চলমান। রাজনীতির এসব মামলা আমার বিরুদ্ধে করে হয়রানী করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে অনেক জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করেছি। বার বার জেলে গিয়েছি, আমাকে পুলিশ একাধিকবার রিমান্ডে এনে নির্যাতন করেছে। আমার অপরাধ ছিল কেন রাজনীতি করি এবং বার বার পাপনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয় কেন। পাপন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিল। তাই হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে হয়রানী করা হয়েছে। এবার আল্লাহ সহায় হয়েছে, পাপন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন আমি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করা হবে আমার কাজ। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেননা বলে জানান।  

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হয়ে মূল্যায়িত হলেন।  এলাকায়  চলছে খুশীর বন্যা।। 

শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হয়ে মূল্যায়িত হলেন।  এলাকায়  চলছে খুশীর বন্যা।। 

Update Time : ১১:৫৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৯ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মোঃ শরীফুল আলম এবারের নির্বাচনে  বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে  বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এবার প্রতিমন্ত্রী করে মূল্যায়ন করলেন। তাকে  বানিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মোঃ শরীফুল আলম ৩০ বছর যাবত বিএনপি’র রাজনীতি করছেন। তার রাজনীতির জীবনে একাধিকবার কারাবরণ, পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতন, বিগত সরকারের অত্যাচার, মামলা – হামলার শিকার হয়েছেন। বিগত ১৫ বছরে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মোট ৮৫ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী, নির্যাতন করেছে। এখনও তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানাসহ কিশোরগঞ্জ জেলায় ৭৩ টি মিথ্যা  মামলা চলমান আছে বলে তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সবগুলি মামলা রাজনৈতিক কারনে দেয়া হয়েছে। গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলে তৎকালীন সরকার তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিতে থাকে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ আদালতে একাধিক মামলায় রিমান্ডে এনে নির্যাতন করে। পুলিশের গাড়ীতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে ঢাকা – কিশোরগঞ্জ আদালতে বার বার হাজির করা হয়। তার বাড়ীঘর ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকবার। ভৈরব – কুলিয়ারচর বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয় একাধিকবার। 

শরীফুল আলম কয়েক বছর যাবত কিশোেরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন তিনি। ফলে ময়মনসিংহের সকল জেলাসহ কিশোরগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে সাংগঠনিক দিকগুলি তিনি দেখভাল করে গেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬ টি আসনের মধ্য ৫ টি আসন বিএনপি পেয়েছে। এই বিজয়ের ফলাফল তারই অবাদান। ভৈরব – কুলিয়ারচরসহ জেলার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে যত রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা হয়েছে এসব মামলার তদারকি তিনি করেছেন। মামলায় নেতাকর্মী যারা আসামী হয়েছে তাদের জামিন, হাজিরা সবই তিনি সহযোগীতা করেছেন। এমনকি দরিদ্র কর্মীদের বাসায় খাবার দাবার চাল পৌঁছে দিয়েছেন। কারাগারে থাকা কর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন তিনি। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে স্বাধীনতার পর জিল্লুর রহমান ৬ বার ও তার ছেলে নাজমুল হাসান পাপন ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শরীফুল আলম দুজনের সাথে ৫ বার মনোনয়ন পেলেও বিজয়ী হতে পারেননি। এবার ফ্যাসিস্ট সরকারের দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায়  ৬ ষ্ঠ বারের মত প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে তার অভিযোগ বার বার তাকে ভোট ডাকাতি করে পরাজিত করা হয়েছে। এবার সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি জনগনের ভোটে বিজয়ী হন। 

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের নেতাকে জনগন ভালবাসে। তিনি গণমানুষের জন্য সবসময় কাজ করেন। নেতাকর্মীরা তাকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে। বিগত দিনে তিনি নির্বাচন করলেও তাকে ভোট ডাকাতি করে পরাজিত করা হয়েছে। এবার বিজয়ের পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তিনি মন্ত্রী হতে পারেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান বলেন, শরীফুল আলম একজন সাদা মনের মানুষ। হিংসা, নিন্দা তার নেই। প্রতিহিংসা রাজনীতি তিনি কখনই করেননা। জেলার ১৩ টি উপজেলায় তার সুনাম রয়েছে। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন তিনি। তাকে এবার প্রতিমন্ত্রী করায় দলের চেয়ারম্যান  তারেক রহমানকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

এবিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, আমাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করায় আমি আমার নেতা তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। বিগত সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ৮৫ টি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে যার ৭৩ টি মামলা এখনও চলমান। রাজনীতির এসব মামলা আমার বিরুদ্ধে করে হয়রানী করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে অনেক জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করেছি। বার বার জেলে গিয়েছি, আমাকে পুলিশ একাধিকবার রিমান্ডে এনে নির্যাতন করেছে। আমার অপরাধ ছিল কেন রাজনীতি করি এবং বার বার পাপনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয় কেন। পাপন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিল। তাই হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে হয়রানী করা হয়েছে। এবার আল্লাহ সহায় হয়েছে, পাপন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন আমি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করা হবে আমার কাজ। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেননা বলে জানান।