১৩ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) ভিআইপি আসনে ৫ম বার বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে মোঃ শরীফুল আলম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ে মুকুট পড়লেন। এবারের জাতীয় ও গণভোট নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায়র তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট। তার নিকটতম ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের রিক্সা মার্কা প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিন ভোট পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট। আজ শুক্রবার কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে এই ফলাফল ঘোষনা করা হয়। ৩১ বছর পর এই আসনটি উদ্ধার করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ১৯৯৬ সালের পর বিএনপির প্রার্থী শরীফুল আলম এবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন এআসনে।
মোঃ শরীফুল আলম তার রাজনীতির জীবনে একাধিকবার চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলেছেন এবার। তার দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনীতির জীবনে তিনি অসংখ্যবার জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতিতে টিকে ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ওপর অনেক জুলুম করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৮৫ টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করা হয়। এখনও তার বিরুদ্ধে ৭৩ টি মিথ্যা মামলা চলমান আছে বলে জানা যায়। বিগত দিনে তিনি ২০০১, ২০০৯ ( উপনির্বাচনসহ ২ বার), ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েও বার বার পরাজিত হয়েছেন। তবে তার দলের দাবি তাকে বার বার ভোট ডাকাতি করে পরাজিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচন করে এবার সফল হয়ে বিজয়ের মুকুট পড়েছেন। তিনি এবার তার নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪ ভোট বেশী পেয়ে ইতিহাস গড়লেন। দেশের ২৯৯ টি আসনের মধ্য সবচেয়ে বেশী ভোট পাওয়ার মধ্য তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন বলে জানা যায়।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিল। কারন এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, তৎসময়ে দলের একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ৬ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। পরে জিল্লুর রহমান ২০০৯ সালে দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হলে তার একমাত্র পুত্র ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন উপ- নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীতে পাপন আরও ৪ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। শরীফুল আলম দুইবার জিল্লুর রহমানের সাথে এবং ২ বার পাপনের সাথে নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ভোট ডাকাতি করে তাকে পরাজিত করা হয়, এই অভিযোগ শরীফুল আলম ও তার দলের নেতৃবৃন্দের। বিগত দিনে শরীফুল আলম প্রার্থী হলে তাকে বিভিন্নভাবে জেল- জুলুম, অত্যাচার- নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এসব অভিযোগ তার দলের নেতাকর্মীদের। বিগত সময়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট হলে আর তাকে নানাভাবে নির্যাতন না করলে আগেই তিনি বিজয়ী হতেন, এমনটি বলেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে জনগনের রায়ে বিপুল ভোট পেলেন। ভৈরব- কুলিয়ারচরবাসীর আশা আখাংকার প্রতিফলন ঘটেছে এবার। শরীফুল আলম সাধারণ মানুষের সেবার জন্যই রাজনীতি করেন। তিনি তার দলের নেতাকর্মীসহ দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে সবসময় সেবা করে যাচ্ছেন। যে কারনে মানুষ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করলেন। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে তার বক্তব্য ছিল, আমাকে একবার ভোট দিয়ে সুযোগ দিন। আমি জনগনের সেবা করতে চাই।
এবিষয়ে শরীফুল আলম বলেন, আমার বিজয় আমার নয়, জনগনের ও আমার দলের নেতাকর্মীদের বিজয়। ২৫ বছর রাজনীতি করে আমি মিথ্যা মামলাসহ নানা অত্যাচার – হয়রানীর শিকার হয়েছি, একাধিকবার জেল খেটেছি বিনা কারনে। তারপরও আমি রাজনীতি ছাড়েনি। মানুষের সেবা করেছি। এখন সুযোগ হয়েছে আরও বড় ধরনের সেবা ও এলাকার উন্নয়ন করতে চেষ্টা করব। আমার অবৈধভাবে টাকা কামানোর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাকে অনেক ধন- সম্পদ দিয়েছে। এলাকাবাসীর সেবা করে মানুষের মন জয় করার জন্য আমি সচেষ্ট থাকব। হিংসার রাজনীতি আমি করতে চাইনা। বিগত সরকারের আমলে হিংসার রাজনীতি করা হয়েছে। সবশেষে তিনি সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন।
Reporter Name 












