ভৈরবে একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিজিবি’র গাড়ীতে জনতার হামলা ভাঙচুর।।আহত -১। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ Time View

১২ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিজিবি’র গাড়ীতে জনতা হামলা চালিয়েছে। এসময় গাড়ী ভাঙচুরসহ বিজিবি’র এক সদস্য আহত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টায় সাদেকপুর ইউপির মৌটুপি গ্রামের মনোহরপুর সেরবাজ সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। ঘটনার আগে দুপুরে  এই ইউনিয়নের বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আসমত মিয়াকে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গের কারনে আইনশৃংখলা বাহিনী আটক করেছিল। তাকে আটকের কারনে উত্তেজিত জনতা বিজিবির গাড়ী থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়। তবে ছিনিয়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। 

জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৪ টায় ভোটগ্রহন শেষ হলে প্রিজাইটিং অফিসার এজেন্টসহ সবার উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু করেন। এর আগে দুপুরে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গের কারনে এই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মোঃ আসমত মিয়াকে বিজবি আটক করে একটি স্কুলের রুমে বন্দি করে রাখে। রাত সাতটা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। ঘটনার সময় এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন বিজিবি সদস্যগন এবং ম্যাজিস্ট্যাট হিসেবে ছিলেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক। পরে ভোট গণনা শেষ করে রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ম্যাজিস্ট্যাট ও বিজিবির নেতৃত্বে প্রিজাইটিং অফিসার প্রভাষক ওমর ফারুক ফলাফলের ব্যালটসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে আসার সময় গাড়ীতে আসমত মিয়াকে নিয়ে উপজেলার নির্বাচনী ফলাফল কেন্দ্রে রাওয়ানা হলে উত্তেজিত জনতা আসমত মিয়াকে গাড়ী থেকে ছিনিয়ে রেখে দেয়। এসময় জনতা বিজিবির গাড়ীর গ্লাস ভাঙচুরসহ এক সদস্যকে মারধোর করে আহত করে। 

এবিষয়ে ভোটকেন্দ্রের  প্রিজাইটিং অফিসার প্রভাষক ওমর ফারুক বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এতে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে যায়। 

দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্যাট এ এইচ এম আজিমুল হক হামলা ও বিজবির গাড়ী ভাঙচুর ও বিজিবির এক সদস্য আহত হওয়ার  কথা স্বীকার করেন। তবে আসমতকে ছিনিয়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তাকে জনতা ছিনিয়ে নেয়নি বরং বয়সের কথা বিবেচনায় তাকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন মৌটুপি গ্রামের মানুষ আগে থেকে উছৃংখল ও সন্ত্রাসী। তাদের ধৈর্যশক্তি কম। ভোট গণনা কিছুটা বিলম্ব হতেই পারে। এজন্য তারা সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করে হামলা করে অপরাধ করেছে। 

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আসমত মিয়াকে বিজিবি বিনা কারনে আটক করেছিল। ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রের সামনে দাড়িঁয়েছিলেন। হঠাৎ তাকে আটক করায় এলাকাবাসী বিক্ষোব্ধ হয়। পরে রাতে  তাকে গাড়ীতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাকে  ছিনিয়ে রেখে দেয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হয়ে মূল্যায়িত হলেন।  এলাকায়  চলছে খুশীর বন্যা।। 

ভৈরবে একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিজিবি’র গাড়ীতে জনতার হামলা ভাঙচুর।।আহত -১। 

Update Time : ০৪:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিজিবি’র গাড়ীতে জনতা হামলা চালিয়েছে। এসময় গাড়ী ভাঙচুরসহ বিজিবি’র এক সদস্য আহত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টায় সাদেকপুর ইউপির মৌটুপি গ্রামের মনোহরপুর সেরবাজ সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। ঘটনার আগে দুপুরে  এই ইউনিয়নের বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আসমত মিয়াকে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গের কারনে আইনশৃংখলা বাহিনী আটক করেছিল। তাকে আটকের কারনে উত্তেজিত জনতা বিজিবির গাড়ী থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়। তবে ছিনিয়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। 

জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৪ টায় ভোটগ্রহন শেষ হলে প্রিজাইটিং অফিসার এজেন্টসহ সবার উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু করেন। এর আগে দুপুরে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গের কারনে এই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মোঃ আসমত মিয়াকে বিজবি আটক করে একটি স্কুলের রুমে বন্দি করে রাখে। রাত সাতটা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। ঘটনার সময় এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন বিজিবি সদস্যগন এবং ম্যাজিস্ট্যাট হিসেবে ছিলেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক। পরে ভোট গণনা শেষ করে রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ম্যাজিস্ট্যাট ও বিজিবির নেতৃত্বে প্রিজাইটিং অফিসার প্রভাষক ওমর ফারুক ফলাফলের ব্যালটসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে আসার সময় গাড়ীতে আসমত মিয়াকে নিয়ে উপজেলার নির্বাচনী ফলাফল কেন্দ্রে রাওয়ানা হলে উত্তেজিত জনতা আসমত মিয়াকে গাড়ী থেকে ছিনিয়ে রেখে দেয়। এসময় জনতা বিজিবির গাড়ীর গ্লাস ভাঙচুরসহ এক সদস্যকে মারধোর করে আহত করে। 

এবিষয়ে ভোটকেন্দ্রের  প্রিজাইটিং অফিসার প্রভাষক ওমর ফারুক বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এতে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে যায়। 

দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্যাট এ এইচ এম আজিমুল হক হামলা ও বিজবির গাড়ী ভাঙচুর ও বিজিবির এক সদস্য আহত হওয়ার  কথা স্বীকার করেন। তবে আসমতকে ছিনিয়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তাকে জনতা ছিনিয়ে নেয়নি বরং বয়সের কথা বিবেচনায় তাকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন মৌটুপি গ্রামের মানুষ আগে থেকে উছৃংখল ও সন্ত্রাসী। তাদের ধৈর্যশক্তি কম। ভোট গণনা কিছুটা বিলম্ব হতেই পারে। এজন্য তারা সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করে হামলা করে অপরাধ করেছে। 

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আসমত মিয়াকে বিজিবি বিনা কারনে আটক করেছিল। ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রের সামনে দাড়িঁয়েছিলেন। হঠাৎ তাকে আটক করায় এলাকাবাসী বিক্ষোব্ধ হয়। পরে রাতে  তাকে গাড়ীতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাকে  ছিনিয়ে রেখে দেয়।