কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর ‘কম্বল, চাদর, বোরকা বিতরণের সময়ে হামলার অভিযোগ। বিএনপি অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২৫ Time View

১০ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে (ভৈরব-কুলিয়ারচর) ১১- দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ আমিন এর পক্ষে  গণসংযোগে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় গতকাল সোমবার রাতে।  অপরদিকে উপজেলা বিএনপির অভিযোগ  নারী ভোটারদের প্রলোভন দেখিয়ে একত্রিত করে কম্বল, বোরকা, চাদর বিতরণ করেছে তারা।  

সোমবার বিকালে ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।

এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয় বলেন, প্রতিদিনের মতই সকাল থেকে আমাদের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিনকে নিয়ে গণসংযোগে ছিলাম। তাঁর বাড়ির পাশে আমানত ইসলামী স্কুল। এটি ওই প্রার্থীর পরিবারের সদস্যরা পরিচালনা করেন। ট্রাস্টি বোর্ডের অর্থায়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কম্বল বিতরণ করা হয়। এগুলো কিছু সেখানে রয়ে যায়। আজ বেলা আড়াইটার দিকে আতাউল্লাহ আমিনের বাড়ির সামনে থেকে কিছু মহিলা তাঁর পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের প্রার্থীর বোন ও ভগ্নিপতির গায়ে হাত তোলেন। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে আসার পর হামলাকারী স্থান ত্যাগ করে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, আতাউল্লাহ আমিনের বাড়ি থেকে ভোটারদের বোরকা, চাদর, টাকা ও কম্বল দেওয়া হচ্ছিল। এর মাধ্যমে ভোটারদের রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে প্ররোচিত করা হয়। পরে এলাকার স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় প্রার্থীর ভাইসহ কয়েকজনের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনার ঘটে। নির্বাচনের তিনদিন আগে ভোটারদেরকে উপহার প্রদান করা নির্বাচনী আইন লংঘন করেছে তারা। 

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ভোটের আগে কোনো প্রার্থীর বাড়ি থেকে কাউকে নগদ অর্থ, বোরকা ও কম্বল দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘনের শামিল। অথচ রিকশার প্রার্থীর বাড়ির লোকজন তাই করছিলেন।

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, একজন প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে কম্বল, চাদর, বোরকা, টাকা  বিতরণের মৌখিক অভিযোগও পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আতাউল্লাহ আমীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। এবারের নির্বাচনে তিনি রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন কিশোরগঞ্জ  জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হয়ে মূল্যায়িত হলেন।  এলাকায়  চলছে খুশীর বন্যা।। 

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর ‘কম্বল, চাদর, বোরকা বিতরণের সময়ে হামলার অভিযোগ। বিএনপি অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ। 

Update Time : ০৮:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১০ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে (ভৈরব-কুলিয়ারচর) ১১- দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ আমিন এর পক্ষে  গণসংযোগে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় গতকাল সোমবার রাতে।  অপরদিকে উপজেলা বিএনপির অভিযোগ  নারী ভোটারদের প্রলোভন দেখিয়ে একত্রিত করে কম্বল, বোরকা, চাদর বিতরণ করেছে তারা।  

সোমবার বিকালে ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।

এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয় বলেন, প্রতিদিনের মতই সকাল থেকে আমাদের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিনকে নিয়ে গণসংযোগে ছিলাম। তাঁর বাড়ির পাশে আমানত ইসলামী স্কুল। এটি ওই প্রার্থীর পরিবারের সদস্যরা পরিচালনা করেন। ট্রাস্টি বোর্ডের অর্থায়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কম্বল বিতরণ করা হয়। এগুলো কিছু সেখানে রয়ে যায়। আজ বেলা আড়াইটার দিকে আতাউল্লাহ আমিনের বাড়ির সামনে থেকে কিছু মহিলা তাঁর পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের প্রার্থীর বোন ও ভগ্নিপতির গায়ে হাত তোলেন। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে আসার পর হামলাকারী স্থান ত্যাগ করে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, আতাউল্লাহ আমিনের বাড়ি থেকে ভোটারদের বোরকা, চাদর, টাকা ও কম্বল দেওয়া হচ্ছিল। এর মাধ্যমে ভোটারদের রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে প্ররোচিত করা হয়। পরে এলাকার স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় প্রার্থীর ভাইসহ কয়েকজনের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনার ঘটে। নির্বাচনের তিনদিন আগে ভোটারদেরকে উপহার প্রদান করা নির্বাচনী আইন লংঘন করেছে তারা। 

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ভোটের আগে কোনো প্রার্থীর বাড়ি থেকে কাউকে নগদ অর্থ, বোরকা ও কম্বল দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘনের শামিল। অথচ রিকশার প্রার্থীর বাড়ির লোকজন তাই করছিলেন।

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, একজন প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে কম্বল, চাদর, বোরকা, টাকা  বিতরণের মৌখিক অভিযোগও পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আতাউল্লাহ আমীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। এবারের নির্বাচনে তিনি রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন কিশোরগঞ্জ  জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম।