৮ ফেব্রুয়ারি , নিজস্ব প্রতিনিধি।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (২১) খুনের ঘটনায় রহস্য উম্মোচন হয়েছে। ঘটনার সময়ে ছিনতায়ে বাধা দেয়ার কারনে প্রাণ গেছে ওই শিক্ষার্থীর। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী মেরাজ মিয়া ও ইব্রাহিম পুলিশের আনা রিমান্ডে একথা স্বীকার করেছে। এর আগে ঘটনায় জড়িত আরও তিন আসামী রনি, পাপ্পু ও সুজন গত ৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্যাট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে খুনের ঘটনায় বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেরাজ ও ইব্রাহিমকে তিনদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা খুনের কারন জানায়। এরপর দুজনকে খুনের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিন গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আবু সাঈদসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

প্রধান আসামী মেরাজ পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন গত ২৯ জানুয়ারি কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান আন্তঃনগর এগারসিন্ধু ট্রেনের যাত্রী হয়ে ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৯ টায় ভৈরব রেলস্টেশনে পৌঁছে। এসময় ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে বিরতি দিয়ে কিশোরগঞ্জ যাত্রার জন্য ইন্জিন ঘুরাতে ১৫/২০ মিনিট সময় নেয়। তখন ওই শিক্ষার্থী ট্রনের ইন্জিনে দাঁড়ানো ছিল। ইন্জিনটি ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘূরাতে সামনে গেলে ছিনতাইকারির দল শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানকে ইন্জিন থেকে নামিয়ে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতে চায়। এসময় সে বাধা দিলে তাকে ছিনতাইকারিরা পেটে ও শরীরে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলটি ছিল ভৈরব রেলস্টেশনের পূর্বদিকে আউটার সিগনালের কাছে অন্ধকার জায়গাতে। সে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রচুর রক্তক্ষরণে তৎক্ষনাৎ মৃত্যুবরণ করলে তাকে টেনে হিছঁড়ে স্টেশনের নিকটে নিউটাউন এলাকায় লাশ ফেলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
তারপর ঘটনার রাত ২ টায় খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ তার লাশটি উদ্ধার করলেও তখন লাশের পরিচয় মেলেনি। পরিদিন ৩০ জানুয়ারি সকালে পিবিআই টিম ভৈরবে এসে লাশের ফিঙ্গার নিয়ে তার আইডি কার্ড বের করে পরিচয় পেয়ে তার পরিবারকে খবর দিলে পরিবারের সদস্যরা লাশ দেখে পরিচয় সনাক্ত করে। ঘটনার রাতে আবু সুফিয়ানের মা বাবা জানত তাদের ছেলে ঢাকা থেকে ট্রেনে তার বাড়ী কিশোরগঞ্জ আসছে। কিন্ত রাতে ছেলে বাড়ীতে না আসায় এবং রাত সাড়ে ৯ টায় তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার চিন্তিত ছিল। তবে তার পরিবার বুঝতে বা জানতে পারেনি ছেলে ভৈরবে খুন হয়েছে। আবু সুফিয়ানের বাড়ী কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার কুর্শাকুড়িয়াল ইউনিয়নে। তার বাবার নাম আবু তাহের। বাবার একমাত্র ছেলে ছিল সে। নিহত আবু সুফিয়ার ঢাকার পল্লবী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার রাতে সে ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। পথিমধ্য ভৈরব রেলস্টেশনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এদিন খুন হয়। ঘটনাটি বেশ আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে রেলওয়ে থানার ওসির বুদ্ধিমত্তার কারনে ঘটনার একদিনের মধ্যই খুনের রহস্যটি উদঘাটন হয়ে যায়। একারনে ওসি প্রশংসিত হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ আবু সাঈদ জানান, ঘটনাটি ছিল ক্লুবিহীন ঘটনা। পুলিশ প্রথমে লাশের পরিচয় পাইনি। কিভাবে কারা তাকে হত্যা করল তার ক্লু বের করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খেয়েছি। পরদিন তার পরিচয় পাওয়ার পর লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে নিহতের বাবার দায়ের করা মামলাটি রেকর্ড করি। আসামী ছিল অজ্ঞাত। এরপর পিবিআই, ঢাকার সিআইডি, ভৈরব থানা পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে খুনের রহস্য উম্মোচন করে একে একে ৮ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার মধ্য খুনের প্রাধান নায়ক ছিল গ্রেফতারকৃত মেরাজ। সে কুখ্যাত ডাকাত ও ছিনতাইকারি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪ টি মামলা আছে। রেলস্টেশনে যত অপকর্ম ও ডাকাতি, ছিনতাই হয় সব ঘটনার সাথে সে জড়িত থাকে। পরে তিনজন আসামী কিশোরগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে খুনের কথা স্বীকার করে। তারা খুনের সাথে কারা জড়িত সবার নাম বলে দেয়। পরে মেরাজ ও ইব্রাহিমকে রিমান্ডে আনলে তারাও খুনের মুটিভ, কেন কি কারনে তাকে খুন করল সবই স্বীকার করে পুলিশের কাছে। তবে আসামীরা বলেছে তাকে খুন করার ইচ্ছা ছিলনা। মোবাইল ও পকেটের টাকা নেয়ার সময় বাধা দিলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। এসময় প্রচুর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। মামলাটি তদন্ত চলমান আছে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 












