৪ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
পিতার মৃত্যুতে পুত্র ভৈরবের হাজতি মিলন মিয়া (৪৫) জানাজায় অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট প্যারোলে মুক্তি দেযার আবেদন করেও অনুমতি মেলেনি। তবে জেলগেইটে দেখার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহর চর গ্রামের মোঃ ফুল মিয়া (৬৫): শারীরিক অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার ছেলে মোঃ মিলন মিয়া (৪৫) একটি মামলায় ( মামলা নং ৭ (৮) ২০২৪, জি আর নং ২৮৬ (২) ২০২৪) গত ৪৯ দিন যাবত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি আছে। পিতার মৃত্যুর পর মঙ্গলবার বিকেলে তার আইনজীবি এড, আবদুল মোমেন ভূইঁয়া তুহিনের মাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে মিলনের প্যারোল মুক্তি চেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদন করার সাড়ে তিনঘন্টা পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক পত্রে জেলগেইটে লাশ দেখানোর জন্য অনুমতি দেয়া হয়। এই অনুমতি পাওয়ার পর আজ বুধবার পরিবারের সদস্যরা একটি এম্বোলেন্স দিয়ে সকাল সাড়ে ৯ টায় পিতার লাশ কিশোরগঞ্জ কারাগারে নিয়ে গেলে পুত্র মিলন মিয়াকে দেখানো হয়। ২০ মিনিট লাশ দেখার সময় দেয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। কারাগারে পিতার লাশ দেখে পুত্র মিলন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারপর লাশ দেখার পর, ভৈরবে লাশ এনে আজ বুধবার বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে হাজতি মিলনকে প্যারোলে মুক্তি না দেয়ায় পরিবারের সদস্যগন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেছেন পুত্র হয়ে পিতার লাশের জানাজা দিতে পারলনা, এই দুঃখ সারাজীবন থেকে যাবে।

এবিষয়ে এড, আবদুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, মোঃ মিলন মিয়াকে রাজনৈতিক একটি মামলায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ভৈরব থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। গত ১৯ জানুয়ারি তাকে আমি আদালত থেকে জামিনের ব্যবস্থা করি। কিন্ত পরে তাকে অন্য একটি মামলায় জেলগেইট থেকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরই মধ্য গতকাল মঙ্গলবার তার বাবা মৃত্যুবরণ করলে জনাজায় অংশ নিতে তার আইনজীবি হিসেবে আমি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট প্যারোল মুক্তির আবেদন করলেও তাকে প্যারোল মুক্তি না দিয়ে জেলগেইটে দেখার অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন।
এবিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) কে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করলেও রিসিভ করেননি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মিজানে রহমতকে ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলেও তিনি কলবেগ করেননি। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলারকে ফোন দেয়া হয় বিষয়টি জানতে, কিন্ত তিনিও এই প্রতিনিধির মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা দিলেও রিপ্লাই দেননি তিনি।
কারাগারের হাজতি মোঃ মিলন মিয়ার ছোট ভাই মোঃ জাহাংগীর আলম বলেন, আমার বড় ভাই মিলন মিয়া কোন নেতা নয় এবং কোন দলে কোন ধরনের পদ নেই তার। গত ১৫ ডিসেম্বর ভৈরব থানা পুলিশ বিনাকারনে তাকে গ্রেফতার করে। গত ১৯ জানুয়ারি তার জামিন হলেও তাকে অন্য মামলা দেখিয়ে জেলগেইটে পুনরায় গ্রেফতার করে। এরই মধ্য গতকাল আমার বাবা মারা গেলে আইনজীবির মাধ্যমে প্যারোল মুক্তি চাইলে জেলা প্রশাসক অফিস থেকে প্যারোল মুক্তি দেয়নি। ফলে আমার ভাই বাবার জনাজায় অংশ নিতে পারলনা। আজ সকালে এম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে জেলগেইটে দেখাইয়াছি ভাইকে। অযথা আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় হয়রানী করছে পুলিশ। ভাই বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারলনা, এই দুঃখ সারাটি জীবন থাকবে।
চাচাত ভাই আবদুস সালাম বলেন মিলন মিয়া কোন নেতা নেতা নয়। এলাকার কিছু লোক শত্রুতামি করে তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এখন মিথ্যা মামলায় সে জেলে আছে। এক মামলায় জামিন হলে আরেক মিথ্যা মামলায় আটক দেখানো হয়। এখন তার বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারলনা।
Reporter Name 












