৩১ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (২১) নিহত হওয়ার একদিন পর থানায় মামলা করা হয়। আজ শনিবার সন্ধ্যার পর নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। কিশোরগঞ্জ সদর থানার কর্শাকরিয়াল ইউনিয়নের ভাদেকুরিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে নিহত আবু সুফিয়ান। সে ঢাকার পল্লবী সরকারী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবি শিক্ষার্থী ছিল। গত বৃহস্পতিবার ( ২৯ জানুয়ারি) রাত ২ টায় ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে শহরের নিউটাউন এলাকার মোড়ে রাস্তা থেকে এই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। প্রথমে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরদিন শুক্রবার ( ৩০ জানুয়ারি) পিবিআই তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় সনাক্ত করে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম কিশোরগঞ্জ সদরের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করার পর ঢাকার পল্লবী সরকারী কলেজে সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়। তার বাবা আবু তাহের পেশায় একজন অটোচালক এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিনী। তাদের একমাত্র ছেলে ছিল সে। তার একটি বোন আছে। অর্থাৎ তারা এক ভাই, একবোন ছিল। শুক্রবার ফূফার মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আবু সুফিয়ান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬.৪০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু ট্রেনে কিশোরগঞ্জের উদ্যেশে যাত্রী হয়ে রাওয়ানা হয়। ট্রেনে বাড়ীতে আসার খবরটি তার মাকে জানায়। রাত ১২ টার পরও যখন সে বাড়ীতে পৌঁছেনি তখন তার পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়ে। সেই সময় তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) সাঈদ আহমেদ এবিষয়ে মামলার কথা স্বীকার করে জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে খবর পেয়ে নিউটাউন মোড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রথমে লাশের পরিচয় মেলেনি। পরদিন পিবিআইটিম নিহতের ফিঙ্গার নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পর পরিচয় সনাক্ত করে। তারপর তার পরিবারকে খবর দিলে তারা লাশ দেখে তাকে সনাক্ত করে। তিনি বলেন, এগারসিন্ধু ট্রেনটি ভৈরব রেলস্টেশনে পৌঁছার পর ইন্জিন ঘূরাতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে। বিরতির সময়ে নিহত শিক্ষার্থী হয়তো ট্রেন থেকে ভৈরব স্টেশনে নামার পর কোন অপরাধী বা ছিনতাইকারীর কবলে পরে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত ঘটনাটি উদঘাটন করতে পুলিশ মাঠে নেমে কাজ করছে। নিহত শিক্ষার্থী কিভাবে, কারা তাকে হত্যা করল তদন্ত চলছে। নিহতের পেটে, পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। ধারনা করা হচ্ছে তাকে একাধিক ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার পর রাস্তায় ফেলে অপরাধীরা পালিয়েছে। অপরাধীদের চিন্হিত করে গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে। অনেক মেধাবি শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার ট্রেনে রাত ১২ টার মধ্য বাড়ী আসার কথা ছিল। কিন্ত সারারাতেও না আসা ও মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় আমরা চিন্তিত ছিলাম। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১ টায় গ্রাম পুলিশ জানায় আমার ছেলের মৃত্যুর খবর। পরে লাশ দেখে সনাক্ত করি। আমার ছেলের কোন শত্রু ছিলনা। শুনেছি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন বিরতির সময় সে স্টেশনে নামলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাটি উদঘাটন করে অপরাধীদের কঠোর বিচার করুক, আমরা বিচার চাই। নিহতের বাবা আবু তাহের বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ। অটোচালক হিসেবে আমার পেশা। ছেলেটা আমার পরিবারের ভরসা ছিল। এখন আলোর প্রদীপ নিভে গেল। থানায় মামলা করতে ভৈরব এসেছি। ছেলে হত্যার কঠোর বিচার দাবি করেন তিনি।
Reporter Name 













