২২ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভৈরবে শিবপুর ইউনিয়নের সচিব মো.আতিকুর রহমানকে মারধোর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভৈরবের জনমনে এনিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় ।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলা শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের রুমে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন সচিব আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্য এলাকার ভূয়া জন্ম নিবন্ধন দেয়ার অভিযোগে এলাকার বিক্ষুদ্ধ একদল লোক এসে ইউপি সচিবকে মারধোর ও জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন নির্দেশে ভৈরব থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ আহত সচিবকে উদ্ধার করেন। পরে সচিবকে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইউপি সচিব মো.আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে একদল লোক ইউনিয়ন পরিষদের আমার রুমে প্রবেশ করে আমাকে মারধোর করে জোর পূর্বক ভাবে একটি সাদা কাগজে পদত্যাগপত্র লিখে আমাকে স্বাক্ষর করিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। অন্য এলাকার ভূয়া জন্মনিবন্ধন দেয়ার অভিযোগ অসত্য মিথ্যা বলে তিনি জানান। পরে তৎক্ষনাত আমি ইউএনওকে মোবাইলে অবগত করলে তিনি থানার পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়।
এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, বিগত সরকারের আমলে ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ও সচিব উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কাজে দূর্নীতি লুটপাট করেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা এই ক্ষোভে সচিবের উপরে হামলা চালিয়েছেন।
শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে একদল দুষ্কৃতিকারী ও দুর্বত্তের দল ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করেন। এসময় ইউপি সচিবকে মারধোর করেন তারা । এ ঘটনায় খবর পেয়ে ইউপি সদস্য কালা মিয়াসহ কযেকজন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসীর চাপের মুখে ভয়ে কিছুই করতে পারেনি স্থানীয় প্রতিনিধিরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুহাদ রুহানী জানান, ইউপি সচিবের উপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ইউপি সচিব আতিকুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছেন বলে তিনি জানান।