বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের অভিযোগ ও দাবির মুখে   ভৈরব থানার ওসি দুই মাসের মধ্য  বদলি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • ১৪২ Time View

১৭ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের অভিযোগ ও  দাবির মুখে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোহাম্মদ হাসমত উল্লাকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার  রাতে তাকে বদলী করার নির্দেশ আসে থানায়।  তিনি গত দুইমাস আগে ১৪ সেপ্টেম্বর পদায়ন হয়ে ভৈরব থানায় যোগদান করেছিলেন। একই ঘটনায় থানার উপ- পরিদর্শক মাজহারুল ইসলামকে গত শুক্রবার  কিশোরগন্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।  কিশোরগন্জের পুলিশ সুপার তাকে বদলী  করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন। গত কয়েকদিন যাবত ভৈরবের  ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করছিল। তাকে বদলির বিষয়টি পুলিশ সুপার স্বীকার করেছেন।  বদলী করার আদেশে বলা হয় থানায় পরবর্তী নতুন ওসি পদায়ন না করা পর্যন্ত পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মোঃ শাহিন মিয়া ওসির সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা শরিফুল হক জয় বলেন, ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ হাসনাত উল্লাহ দুইমাস আগে থানায় যোগদানের পর থেকে তার কর্মকান্ড ভাল ছিলনা। তার বিরুদ্ধে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ১৩ টি অভিযোগ দিয়েছি এসপির কাছে। অভিযোগের মধ্য রয়েছে ভৈরবের সন্ত্রাসীসহ গুরুতর অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে ছোটখাট মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার পর তারা সহজেই জামিনে বের হয়ে যায়। ওসি  পৌরসভার দুটি  ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্ব পেয়ে নাগরিকদের নানা  কাজে হয়রানী করছে। একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে না ধরে ২৭ নং আসামী আবুল কালামকে গ্রেফতার করে, অথচ তিনি ( কালাম)  হত্যার সাথে জড়িত ছিলনা। সাধারণ মানুষের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিতে মানুষকে হয়রানী করেন তিনি, এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে । এধরনের আরও একাধিক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ভৈরবের মত গুরুত্বপূর্ন থানার ওসির উপযুক্ত পুলিশ অফিসার  তিনি নন। তাই আমরা ছাত্ররা তাকে বদলি করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলাম এবং তাকে বদলি করার  নির্দেশে আমরা সফল হয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন জানান, গত বুধবার ছাত্ররা আমার কাছে এসেছিল অভিযোগ নিয়ে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম বিষয়টি পুলিশ সুপারের কাছে জানাতে। কারন পুলিশ বিভাগের অভিযোগের বিষয় আমরা প্রশাসন দেখিনা। পুলিশ বিভাগ এসব দেখে থাকে। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ তার বদলির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত মঙ্গলবার থানার উপ- পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আবুল কালামকে গ্রেফতার করার পর ছাত্ররা তাকে ছাড়াতে থানায় আসে। আমি হত্যা মামলার আসামী ছাড়তে রাজী না হওয়ায় ছাত্ররা আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে বদলির দাবি করে। আমি থানায় যোগদানের পর কোনরকম অনৈতিক কাজ করেনি। নিজে সৎ থেকে ভৈরববাসীর সেবা করেছি দুইমাস যাবত। চাকরি করি পুলিশের, বদলি স্বাভাবিক ঘটনা। এর বেশী কিছু আমার বলার নেই।

কিশোরগন্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর সাথে এবিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভৈরব থানার ওসির বদলি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রশাসনিক কারনে জনস্বার্থে তাকে কিশোরগন্জের পুলিশ লাইনে বদলী করা হয়। তিনি বলেন,  কারো অভিযোগের প্রেক্ষিতে  বা দাবির মুখে তাকে বদলি করা হয়নি। চাকরি করলে বদলী হওয়া নিয়মিত ঘটনা বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ।। গ্রেফতার -১ 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের অভিযোগ ও দাবির মুখে   ভৈরব থানার ওসি দুই মাসের মধ্য  বদলি।

Update Time : ১১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

১৭ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের অভিযোগ ও  দাবির মুখে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোহাম্মদ হাসমত উল্লাকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার  রাতে তাকে বদলী করার নির্দেশ আসে থানায়।  তিনি গত দুইমাস আগে ১৪ সেপ্টেম্বর পদায়ন হয়ে ভৈরব থানায় যোগদান করেছিলেন। একই ঘটনায় থানার উপ- পরিদর্শক মাজহারুল ইসলামকে গত শুক্রবার  কিশোরগন্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।  কিশোরগন্জের পুলিশ সুপার তাকে বদলী  করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন। গত কয়েকদিন যাবত ভৈরবের  ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করছিল। তাকে বদলির বিষয়টি পুলিশ সুপার স্বীকার করেছেন।  বদলী করার আদেশে বলা হয় থানায় পরবর্তী নতুন ওসি পদায়ন না করা পর্যন্ত পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মোঃ শাহিন মিয়া ওসির সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা শরিফুল হক জয় বলেন, ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ হাসনাত উল্লাহ দুইমাস আগে থানায় যোগদানের পর থেকে তার কর্মকান্ড ভাল ছিলনা। তার বিরুদ্ধে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ১৩ টি অভিযোগ দিয়েছি এসপির কাছে। অভিযোগের মধ্য রয়েছে ভৈরবের সন্ত্রাসীসহ গুরুতর অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে ছোটখাট মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার পর তারা সহজেই জামিনে বের হয়ে যায়। ওসি  পৌরসভার দুটি  ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্ব পেয়ে নাগরিকদের নানা  কাজে হয়রানী করছে। একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে না ধরে ২৭ নং আসামী আবুল কালামকে গ্রেফতার করে, অথচ তিনি ( কালাম)  হত্যার সাথে জড়িত ছিলনা। সাধারণ মানুষের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিতে মানুষকে হয়রানী করেন তিনি, এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে । এধরনের আরও একাধিক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ভৈরবের মত গুরুত্বপূর্ন থানার ওসির উপযুক্ত পুলিশ অফিসার  তিনি নন। তাই আমরা ছাত্ররা তাকে বদলি করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলাম এবং তাকে বদলি করার  নির্দেশে আমরা সফল হয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন জানান, গত বুধবার ছাত্ররা আমার কাছে এসেছিল অভিযোগ নিয়ে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম বিষয়টি পুলিশ সুপারের কাছে জানাতে। কারন পুলিশ বিভাগের অভিযোগের বিষয় আমরা প্রশাসন দেখিনা। পুলিশ বিভাগ এসব দেখে থাকে। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ তার বদলির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত মঙ্গলবার থানার উপ- পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আবুল কালামকে গ্রেফতার করার পর ছাত্ররা তাকে ছাড়াতে থানায় আসে। আমি হত্যা মামলার আসামী ছাড়তে রাজী না হওয়ায় ছাত্ররা আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে বদলির দাবি করে। আমি থানায় যোগদানের পর কোনরকম অনৈতিক কাজ করেনি। নিজে সৎ থেকে ভৈরববাসীর সেবা করেছি দুইমাস যাবত। চাকরি করি পুলিশের, বদলি স্বাভাবিক ঘটনা। এর বেশী কিছু আমার বলার নেই।

কিশোরগন্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর সাথে এবিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভৈরব থানার ওসির বদলি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রশাসনিক কারনে জনস্বার্থে তাকে কিশোরগন্জের পুলিশ লাইনে বদলী করা হয়। তিনি বলেন,  কারো অভিযোগের প্রেক্ষিতে  বা দাবির মুখে তাকে বদলি করা হয়নি। চাকরি করলে বদলী হওয়া নিয়মিত ঘটনা বলে তিনি জানান।