ভৈরবে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৫, দোকানপাট ঘরবাড়ি ভাংচুর ।। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১৮ Time View

১৮ জানুয়ারি,   নিজস্ব  প্রতিনিধ

 ভৈরবে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া এই ঘটনায় ৫/৬ টি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আজ শনিবার দুপুর  ১২ টার দিকে ভৈরব শহরের চন্ডিবের হাসপাতাল সংলগ্ন পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। 

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুবদল নেতা ও সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪২) , তার ছেলে রাতুল ( ২৭)। অপরদিকে সাবেক কাউন্সিলর বিএনপির নেতা আনার মিয়ার পক্ষের জসিম মিয়া (৩৫) । আহতদের মধ্য দুজনকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আজ শনিবার দুপুর  ১২ টার দিকে পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের আগমনকে কেন্দ্র করে চন্ডিবের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা লোকজন নিয়ে জড়ো হয়। এসময়ে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির যুবদল সভাপতি হাজী আক্তার মিয়ার পক্ষের লোকজন ও পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে ওয়ার্ড যুবদল নেতা সফিকুল ইসলামের লোকজনের মধ্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এক নেতাকে হাইব্রিড নেতা ডাকাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লোকজনের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গুরুতর আহত হয় যুবদল নেতা সফিকুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন নেতা। পরবর্তীকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।  

আহত বিএনপির যুবদল নেতা সফিকুল ইসলামের শালি বিউটি বেগম বলেন, আমার দুলাভাই সকালের দিকে বিএনপির নেতা আলম সাহেবের অনুষ্ঠানে লোকজন নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আক্তার মিয়া, আসাদ মিয়া ও তার লোকজন মারধোর করে। এসময় দা দিয়ে নাক মুখে কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করেন। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি করছি। 

স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি নেতা হাজী মো. আক্তার মিয়া বলেন, কথাকাটা নিয়ে হঠাৎ করে সফিকুল ইসলামের লোকজনের সাথে আমাদের লোকজনের মধ্য ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসে শেষ করে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.রেজিনা পারভীন জানান, মারামারি ঘটনায় এই পর্যন্ত ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্য ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

এবিষয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মোঃ শাহিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। দুটি পক্ষ একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কথাকাটি করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান। কারো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ।। গ্রেফতার -১ 

ভৈরবে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৫, দোকানপাট ঘরবাড়ি ভাংচুর ।। 

Update Time : ১০:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

১৮ জানুয়ারি,   নিজস্ব  প্রতিনিধ

 ভৈরবে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া এই ঘটনায় ৫/৬ টি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আজ শনিবার দুপুর  ১২ টার দিকে ভৈরব শহরের চন্ডিবের হাসপাতাল সংলগ্ন পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। 

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুবদল নেতা ও সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪২) , তার ছেলে রাতুল ( ২৭)। অপরদিকে সাবেক কাউন্সিলর বিএনপির নেতা আনার মিয়ার পক্ষের জসিম মিয়া (৩৫) । আহতদের মধ্য দুজনকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আজ শনিবার দুপুর  ১২ টার দিকে পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের আগমনকে কেন্দ্র করে চন্ডিবের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা লোকজন নিয়ে জড়ো হয়। এসময়ে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির যুবদল সভাপতি হাজী আক্তার মিয়ার পক্ষের লোকজন ও পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে ওয়ার্ড যুবদল নেতা সফিকুল ইসলামের লোকজনের মধ্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এক নেতাকে হাইব্রিড নেতা ডাকাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লোকজনের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গুরুতর আহত হয় যুবদল নেতা সফিকুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন নেতা। পরবর্তীকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।  

আহত বিএনপির যুবদল নেতা সফিকুল ইসলামের শালি বিউটি বেগম বলেন, আমার দুলাভাই সকালের দিকে বিএনপির নেতা আলম সাহেবের অনুষ্ঠানে লোকজন নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আক্তার মিয়া, আসাদ মিয়া ও তার লোকজন মারধোর করে। এসময় দা দিয়ে নাক মুখে কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করেন। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি করছি। 

স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি নেতা হাজী মো. আক্তার মিয়া বলেন, কথাকাটা নিয়ে হঠাৎ করে সফিকুল ইসলামের লোকজনের সাথে আমাদের লোকজনের মধ্য ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসে শেষ করে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.রেজিনা পারভীন জানান, মারামারি ঘটনায় এই পর্যন্ত ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্য ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

এবিষয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মোঃ শাহিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। দুটি পক্ষ একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কথাকাটি করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান। কারো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।